Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, ভাসছে কোটি টাকার আমদানি পণ্য

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে হাঁটুপানিতে ভাসছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩ নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি শেডে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল পানিতে তলিয়েছে।

কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, “বেনাপোল বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার  আমদানিকৃত মালামাল।”

স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে এলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২/১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম বলেন, “বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।”

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, স্থলবন্দরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই বন্দরের কাস্টমসের মাধ্যমে বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক।

বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, “পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

   

About

Popular Links

x