Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টানা বৃষ্টিতে ধসে পড়লো সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

খবর পেয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বান্দরবানে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় একটি সেতু ধসে পড়ায় বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং অধিকাংশ উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় বন্যার পানির তীব্র স্রোতে সেতুটি ধসে পড়ে। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা ও নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এদিকে শুক্রবার কিছু এলাকায় পানি কমলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন, ক্যাচিংঘাটা, নোয়াপাড়া ও শেরে বাংলানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবারের তুলনায় দুপুর পর্যন্ত প্রায় সাত ফুট পানি বেড়েছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা ও পাহাড় ধসের কারণে জেলার সাতটি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটার যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। লামা-আলীকদম সড়কের শীবাতলী, রেপারপাড়া ও পশ্চিম শীলের তুয়া এলাকায় সড়কের ওপর পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

লামার বাসিন্দা মিটু দাশ বলেন, “গত চার দিন ধরে লামা-আলীকদম সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং এখনও বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট স্বাভাবিক হয়নি।”

বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত সাত হাজার মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে অনেকেই বিভিন্ন বহুতল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হলেও আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা অনেক মানুষ খাদ্যসংকটে রয়েছেন।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের শুকনো ও রান্না করা খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং মশার কয়েল সরবরাহ করা হচ্ছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে জেলা। এদিকে থানচির জিন্নাপাড়ায় কয়েক দিন ধরে আটকে থাকা চার পর্যটককে শনিবার বিজিবি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বান্দরবানে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

   

About

Popular Links

x