টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ৪৪ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত ১৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। কক্সবাজার জেলায় নিহত ৩১ জন এবং আহত ২৪ জন। নিখোঁজ রয়েছে ১ জন। বান্দরবানে ৬ জন নিহত এবং ২ জন আহত। রাঙামাটিতে নিহত ৩ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজন আহত হন।
পাঁচ জেলায় সাড়ে ৪৪ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় পাঁচ জেলায় ৪৪,৪০০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১৫,২২৩টি, কক্সবাজার জেলায় ১১,২৭৮টি, রাঙামাটি জেলায় ৪৮৩টি, খাগড়াছড়ি জেলায় ১,০৪০টি এবং বান্দরবান জেলায় ১৬,৩৭৬টি।
বন্যায় সরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
বন্যায় চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় সরকারিভাবে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে দুর্গত লোকজনকে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৭৯৫ টন চাল এবং সাড়ে ৬৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় প্রায় ২১ লাখ টাকা, ২৫৬ টন চাল, ৭,৮৩০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ ৪,৫০০ জনকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলায় ২৯৫ টন চাল এবং ৩৫ লাখ নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ৩০০ টন চাল এবং সাড়ে ৩০ লাখ টাকা এবং বান্দরবানে ৫৫ টন চাল, ৪ লাখ টাকা এবং ২,৮৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।ত্রাণ সামগ্রী মজুদ
জেলার পাঁচ উপজেলায় এখনো বেশ কিছু ত্রাণ মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে মজুদ আছে চাল ৪০৫ টন এবং ১৭ লাখ টাকা। কক্সবাজার জেলায় পৌনে তিন লাখ টাকা, চাল ৫৮ টন, শুকনো খাবার ১,৬৭৮ প্যাকেট এবং ঢেউটিন ৭ বান্ডিল মজুদ আছে। রাঙামাটিতে ২০৫ টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ টাকা। খাগড়াছড়িতে চাল ১০০ টন এবং টাকা মজুদ আছে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বান্দরবান জেলায় মজুদ আছে চাল ১৭৬ টন, ২ লাখ টাকা এবং ৬২০ প্যাকেট মজুদ ছিল।



