বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা দিতে বহুল প্রতীক্ষিত 'প্রবাসী কার্ড' আগামী আগস্ট মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে মোট ২ লাখ প্রবাসী কর্মীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড আকারে এটি বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের মাঝে তা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি ব্যাংকিং সেবা সহজ করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করাই এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রবাসী কার্ড মূলত একটি বহুমুখী স্মার্ট ডিজিটাল পরিচয়পত্র। এটি একই সাথে পরিচয় নিশ্চিতকরণ, ব্যাংকিং লেনদেন এবং সরকারের কল্যাণমূলক সেবা গ্রহণের চাবি হিসেবে কাজ করবে। কার্ডে থাকা বিশেষ কিউআর কোড স্ক্যান করে নিমেষেই কার্ডধারীর যাবতীয় তথ্য যাচাই করা যাবে। এছাড়া স্মার্টফোনে অ্যাপের মাধ্যমে কার্ডের একটি ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহার করা যাবে, ফলে সব সময় প্লাস্টিক কার্ড সঙ্গে বহনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
এই কার্ডধারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রভেদে অর্থনৈতিক ও নাগরিক নানাবিধ সুবিধা ভোগ করবেন—
ডুয়েল কারেন্সি ও কেনাকাটা: আধুনিক পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকায় প্রবাসীরা নিজ অবস্থানরত দেশের মুদ্রার পাশাপাশি বাংলাদেশে টাকায় লেনদেন করতে পারবেন। প্রবাসে বসেই দেশে থাকা স্বজনদের জন্য নির্দিষ্ট সীমার কেনাকাটা করা যাবে।
এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ও ট্রাভেল সুবিধা: কার্ডধারীরা দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ প্রটোকল সেবা ও লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এছাড়া উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে মিলবে বিশেষ ছাড়।
'প্রবাসী সিটি'তে প্লট ও আবাসন অগ্রাধিকার: সরকার কর্তৃক দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গড়ে তোলা ‘প্রবাসী সিটি’ আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
বীমা ও সরকারি প্রণোদনা: বিএমইটির প্রচলিত বীমা কাভারেজ, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি বৈধ উপায়ে পাঠানো রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা আগের মতোই বজায় থাকবে।
প্রথম ধাপে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-তে যাদের তথ্য ও নিবন্ধন হালনাগাদ রয়েছে, তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রবাসী কার্ড পাবেন। যাদের ইতোমধ্যে বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে নিবন্ধন ফি দিতে হবে না। তবে নতুন আবেদনকারীদের নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিতে হতে পারে।
পরীক্ষামূলক পর্ব সফলভাবে শেষ হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাধ্যমে সরাসরি প্রবাসীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষা, ডিপেনডেন্ট বা অন্য ভিসায় প্রবাসে গিয়ে পরবর্তীতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া কর্মীদেরও ভবিষ্যতে নীতিমালার আওতায় এনে প্রবাসী কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।



