গোপালগঞ্জে পুকুর থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল (৩৮) নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই এসআই খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ফাতেমা কানিজ ও শ্বশুর কবিরুল ইসলাম ওরফে ঝুনু শেখকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রামের শ্বশুর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ওই এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের হায়দার আলী ভূইয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ জুলাই সরকারি কাজে গোপালগঞ্জে আসেন মাহমুদুল। কাজ শেষে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে উঠেন। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাইকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে শ্বশুর ঝুনু শেখের বাড়ির পাশের একটি পুকুরে স্থানীয়রা তার মরদেহ ভাসতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত এসআইয়ের বড় ভাই বিএম আশিকুজ্জামান বলেন, “আমার ভাবি বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। ভাই ছুটিতে এলে আমাদের বাড়িতে না এসে, শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। এবার ছুটিতে বাড়িতে আসার পর শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর টাকা নিয়ে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আমার ধারণা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও ন্যয্য বিচার দাবি করছি।”
নিহতের ছোট বোন নাদিরা সুলতানা বলেন, “ভাইকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিত না ভবি। এর আগে ভাবি আমার ভাইকে দুইবার খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। আমরা সন্দেহ করছি, ভাবি ও তার বাড়ির লোকজন ভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরাতহাল প্রতিবেদন শেষে গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।”



