অবশেষে থানায় জেনারেল ডায়েরি (জিডি ) করেছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। ওই শিক্ষিকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে ট্রল ও সমালোচনা হচ্ছিল। এ প্রেক্ষিতে তার পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান জানান, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ওই শিক্ষিকা থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরী) করেছন। কয়েকটি ফেসবুক আইডির (পেজ) বিরুদ্ধে ওই জিডি করা হয়েছে-যে আইডিগুলো থেকে তাকে নিয়ে থেকে বিভিন্ন পোস্ট করা হয়েছে।
ওসি বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। আমরা বর্তমানে ওই আইডিগুলো আইডেন্টিফাই (শনাক্ত) করার চেষ্টা করছি। উনি (শিক্ষিকা) যদি বিভ্রান্ত বা বিব্রত বোধ করেন, অথবা যদি মনে করেন উনার মানহানি হয়েছে, তবে বিষয়টি সেভাবেই দেখা হবে।”
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের “আজ কেন মন উদাসী হয়ে” গানের সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাকে হাঁটতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের সমালোচনা ও ট্রলের মুখে পড়েন তিনি।
তবে এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিউটি রানী পালের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অনেক শিক্ষক একই ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ “শ্রাবণের মেঘগুলো” গানের সঙ্গে ভিডিও তৈরি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সিলেট সফররত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও বলেছেন, “গান গাওয়া তো দোষের কিছু না।”
এ বিষয়ে শিক্ষক দীপা মণ্ডল নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “শিক্ষকদের নাচ, গান, অভিনয়সহ বিভিন্ন সৃজনশীল দক্ষতা অর্জনের কথা বলা হয়। অথচ একজন শিক্ষক ব্যক্তিগত আনন্দের একটি মুহূর্ত প্রকাশ করলেই সেটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।” শাড়ি পরা একজন শিক্ষকের সাধারণ হাঁটার ভিডিওকে অশ্লীলতার সঙ্গে যুক্ত করারও সমালোচনা করেন তিনি।
বিউটি রানী পাল জানান, “গত বৃহস্পতিবার রাত্রে ভিডিওটা ভাইরাল হয়েছিল। আর আমি শুক্রবারে বিকালে জিডি করেছি।” তিনি জানান, আসিফ ইকবাল হিরণ নামের একজন ব্যক্তিগত অনলাইন পেজ থেকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এখন দেখছি, অন্য আরেকটা “প্রিয় ফেঞ্চুগঞ্জ” নামের পেজ থেকেও নেতিবাচক জিনিস ছড়িয়ে পড়ছে।
বিউটি পাল বলেন, “আসলে তারা কি চাচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। সবাই সবার নিজের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করছে। এরপরেও নেতিবাচক জিনিস ছড়িয়ে পড়ছে। তাদের যদি মনে হয় না ভুল হয়েছে বা ভুল স্বীকার না করে কিংবা সংবাদ মাধ্যমে যদি ভুল স্বীকার না করেন তাহলে আমি সাইবার আইনে মামলা করতে বাধ্য হব। আমাকে উনি বাধ্য করবেন আর কি। আমি অনেকদিন অপেক্ষা করছি। মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে গেছি আমি।”



