কক্সবাজার সৈকতের দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় সমুদ্রে ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে “এফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং” এ এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও পরিচালক মো. ফরিদ নামে এক ব্যক্তি।
নিহত শৌভিক রায় খুলনা সদর উপজেলার বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের সদস্য ও স্বজনসহ ৯ জনের একটি দল নিয়ে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, প্যারাসেইলিং চলাকালে নিরাপত্তা হারনেস থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান শৌভিক। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া, স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, বারবার নিষেধ সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকদের প্যারাসেইলিং করিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠান-মালিক ফরিদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকায় ফরিদ পরিচালিত একাধিক প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল ও উদ্ধারব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। গত বছর ৩০ আগস্ট এক পর্যটক ঝাউগাছে আটকে ঝুলে ছিলেন, আর ২০ মে এক দম্পতি সমুদ্রে ছিটকে আহত হন দুটি ঘটনার পরই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা থামবে না। নিরাপত্তার মান যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ রাখাতে হবে।”



