Tuesday, August 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাতক্ষীরায় হাসপাতালে আগুন, নারী-শিশু আহত

চৌরঙ্গী এলাকার ব্লিস হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ১০ তলাবিশিষ্ট ব্লিস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে লাগা এই আগুনের তীব্র ধোঁয়া ও হুড়োহুড়িতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ অন্তত ৫০ জন রোগী ও তাদের স্বজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোয় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ১০ তলা ভবনটির বেসমেন্ট বা পার্কিং ফ্লোর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয় এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয়।  

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পার্কিং ফ্লোরে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ অথবা বেসমেন্টে অক্সিজেন সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটতে পারে।

খবর পেয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় পরবর্তীতে বাইরে থেকে আরও ৪টি ইউনিট এনে মোট ৬টি ইউনিট একযোগে কাজ চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

তবে ভবনটিতে প্রচুর ধোঁয়া জমে থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ সহায়তায় ভবনে থাকা নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের দ্রুত নিরাপদে বের করে আনা হয়। ধোঁয়ায় অসুস্থ ও আহত রোগীদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হার্ট ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আহতদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সড়ক সামলানোয় সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ, বিজিবি ও ট্রাফিক বিভাগের শতাধিক সদস্য একযোগে কাজ করেন।

হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, “নিচতলায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত রোগীদের সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার ব্যবস্থা করি। পরে ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা এসে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”

সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, ৬টি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে পরে বিস্তারিত জানা যাবে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিস, “বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং ভেতরে থাকা সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

   

About

Popular Links

x