Saturday, August 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আলীকদমে তীব্র নদীভাঙন: বাসিন্দাদের ঘর হারানোর শঙ্কা

স্রোতের তীব্রতায় জিওব্যাগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৭ এএম

বান্দরবানের আলীকদমে বর্ষার পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদীতীর ভাঙন। প্রবল স্রোতে প্রতিদিন নদীতে বিলীন হচ্ছে মাটি ও ফসলি জমি। কোথাও বসতবাড়ি, কোথাও আবার স্থানীয় সড়কও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী বহু পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।

আলীকদম সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাগানপাড়া এবং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মংচিং হেডম্যানপাড়া এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। এসব স্থানে নদীর পাড়ে বড় বড় ধস দেখা দিয়েছে। ভাঙন থেকে ঘরবাড়ি রক্ষায় ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার তাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

নদীর তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন সময়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ব্যবহার করেছে। পশ্চিম বাগানপাড়া ও চৈক্ষ্যং খালের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে এ ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, স্রোতের তীব্রতায় সেগুলো স্থায়ীভাবে টিকে থাকছে না। ফলে কিছুদিন পর আবারও নদীর পাড় ধসে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দিলে জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু পানি কমে যাওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ তীরের স্থায়ী সুরক্ষায় কার্যকর কোনো কাজ না হওয়ায় পরবর্তী বর্ষায় একই সংকট ফিরে আসে। দীর্ঘদিনের এই ভাঙনে অনেকেই জমি ও বসতভিটা হারিয়েছেন। ঘর হারিয়ে কেউ স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ অন্য এলাকায় গিয়ে নতুন করে বসতি গড়েছেন।

ভাঙনের প্রভাব শুধু বসতবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নেই। কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী সড়কগুলোও ঝুঁকিতে পড়ায় এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে এবার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। নদীর স্রোতের গতিপথ ও ভাঙনপ্রবণতা বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীররক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে নদীর ভাঙন কমার পাশাপাশি মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চৈক্ষ্যং খালের প্রায় ৮০ মিটার এবং পশ্চিম বাগানপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার অংশে জিও ব্যাগ বসানো হয়েছে। এ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে এসব উদ্যোগের পরও ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান পার্বত্য জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি সুরক্ষার কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নদীর তীর রক্ষায় ব্লক বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

   

About

Popular Links

x