কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদ জানিয়ে আয়োজিত ছাত্রদলের মিছিলে হামলাই জড়িয়েছে দলেরই অন্য এক পক্ষ। এতে অন্তত ১৫ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত নেতাকর্মীদের দাবি, তারা নাঙ্গলকোট আসনের সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়ার অনুসারী। আর হামলাকারীরা বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া বাজারে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান ভূঁইয়া বাছিরের ছোট ভাই হাসান খোরশেদ ফরহাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী শোডাউন ও মিছিল বের করেন।
উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঢালুয়া বাইপাস এলাকায় এক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেন। মিছিল চলাকালে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
আহত ছাত্রদল নেতা আমির হামজা মুন্না বলেন, "আমরা ছাত্রলীগের মিছিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলাম। অথচ মোবাশ্বের গ্রুপের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালাল। এখন আমরা কার কাছে বিচার চাইব?"
আহত আরেক ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের মিছিল শেষ হওয়ার আগেই আবদুল মমিন, আলী হাসান টিপু ও আব্দুর রহিম সুজনের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।"
এদিকে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিতর্ক তৈরি হয়। সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে লিখেন, ‘হায়রে অপরাজনীতি, মিছিল করলো আওয়ামী লীগ, খুশি হলো গফুর লীগ, ব্যর্থ হলো এমপি, বিচার করবে জনগণ।’ ওই পোস্টে কয়েকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করলে প্রতিউত্তরে এমপির আইডি থেকে আঞ্চলিক ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, "আমার আইডি থেকে পোস্ট ও মন্তব্যের বিষয়ে আমি অবগত আছি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের ওপর কেন হামলা করবে, তা আমার জানা নেই।"
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন জানান, সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি; পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।



