ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার প্রতারণার মামলার এক আসামিকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা জেলার কোর্ট পরিদর্শক কামাল উদ্দীন সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ হাতেনাতে দুইজনকে আটক করে।
এ ঘটনায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাভার মডেল থানার প্রতারণার একটি মামলায় আসামি মো. ইউসুফকে (৩৮) আদালতের কার্যক্রম শেষে জেলখানায় প্রেরণের উদ্দেশ্যে প্রাঙ্গণে রাখা প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই আসামিকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় আসামিপক্ষের হামলায় এটিএসআই হানিফ মাহমুদ এবং কনস্টেবল তোফায়েল আহম্মেদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক মারধর, কিল-ঘুষি মারে এবং এক কর্মকর্তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে প্রায় ২,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।
হামলা ও ধস্তাধস্তির মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তারা হলেন, সোহাগ খান (৩৬) ও নাজমুল হাসান (১৯)। গ্রেপ্তার সোহাগ খান সেই মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি এবং নাজমুল হাসান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের তথ্য সরবরাহ করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ঘটনার সুযোগ নিয়ে অপর এক আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ, সরকারি কাজে বাধা দান এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করে পুলিশ।



