সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের লাঠি গ্রামে একটি মেছোবাঘ পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের লাঠি গ্রামে এই বন্য প্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের পাশে এক স্কুলছাত্রী মেছোবাঘটিকে দেখতে পায়। আতঙ্কিত হয়ে সে চিৎকার শুরু করলে লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কয়েকজন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে মেছোবাঘটি পাশের একটি কবরস্থানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে কয়েকজন সেখান থেকে সেটিকে খুঁজে বের করে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে স্থানীয়রা।
বন্য প্রাণীটিকে পিটিয়ে হত্যার পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লাঠি গ্রামের শওকত আলীর ছেলে তাজউদ্দীন মেছোবাঘটি পিটিয়ে হত্যায় অংশ নেন এবং তিনিই এর ভিডিওপ্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা জানান, বন্য প্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করলে সেটিকে না মেরে বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত ছিল।
একটি বন্য প্রাণীকে এভাবে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা এবং সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
মেছোবাঘকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে বনবিভাগের কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, “গোয়াইনঘাটে মেছোবাঘ পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মেছোবাঘ মানুষের কোনো ক্ষতি করে না, বরং ইঁদুর ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনে সাহায্য করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী চলে এলে তাকে হত্যা না করে, তাৎক্ষণিকভাবে বনবিভাগকে জানানোর অনুরোধ জানাই।”



