মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল রেজিস্ট্রির নামে প্রায় দেড় কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। পূর্বের বায়না দলিল গোপন রেখে জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে নতুন দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় নাগরিকরা।
এ ঘটনায় সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. জসিম মিয়া। একইসঙ্গে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের রাধানগরের গৌতম রুদ্রপালসহ তিন ব্যক্তি ২০২০ সালের ৮ জুন ভানু লাল রায়ের কাছে ৪.২৭২৬ একর ভূমি ৬ কোটি ৪০ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য ১৬২২ নং বায়না দলিল রেজিস্ট্রি করেন। ওই সময় বায়না বাবদ ৬০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে ক্রেতাপক্ষ ও দলিল লেখকের যোগসাজশে ওই জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও অবকাঠামো উন্নয়নের আড়ালে জমির সরকারি মৌজা দর বা মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেখানো হয়।
অভিযোগকারীর তথ্যমতে, এই প্রক্রিয়ায় সরকার প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ৫১১৪/২০২৪, ৫১১৬/২০২৪, ৫১২৯/২০২৪, ৫১৩০/২০২৪, ৫১৩১/২০২৪, ৫১৩২/২০২৪, ৫১৩৩/২০২৪, ৫১৩৪/২০২৪, ৫১৩৫/২০২৪, ৫১৩৬/২০২৪, ৫১৩৭/২০২৪, ২৯৯৩/২০২৩, ২৯৯২/২০২৩, ৪৩১৬/২০২০, ২৯৬৭/২০২৩, ৪৩০৫/২০২৪ নং দলিলসহ আরও বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে জমির মূল্য কম দেখিয়ে কৌশলে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, “দলিলগুলোর বায়না রেজিস্ট্রি হয়েছে ২০২০ সালে, আর আমি যোগদান করেছি ২০২৪ সালে। বায়না রেজিস্ট্রি গোপন রাখা হয়েছিল কিনা, তা আমার জানা ছিল না।”
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনে গিয়ে এটি তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাজস্বের বিশাল অংকের এই ক্ষতির পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ইতিমধ্যে সরকারি অডিট সংস্থাও (এজি অডিট) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।



