জয়পুরহাট সদর উপজেলার জিতারপুর মোড়ের একটি আখখেত থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ ইজিবাইকচালক ফরিদ হোসেনের (৪১) বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে (২৭) বুধবার বিকেলে নওগাঁর আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে কঙ্কালটি দাফন করে পরিবার।
ফরিদের বাবা আবদুল কুদ্দুস জানান, ২০ আগস্ট সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার ছেলে আর ফেরেননি। আখখেতে কঙ্কাল পাওয়ার খবর শুনে সেখানে গিয়ে পোশাক দেখে তারা নিশ্চিত হন যে সেটি ফরিদের। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার হোপীরহাট গ্রামের বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হওয়ার পর ফরিদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার সদর উপজেলার পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ফরিদের ইজিবাইক উদ্ধার করা হয় এবং রবিউল ও জাকির হোসেন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ফরিদের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন, যেখানে সাগরকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরদিন মঙ্গলবার ভোরে জিতারপুর মোড়ের আখখেত থেকে একটি শিয়াল মানুষের হাড়গোড় সড়কে টেনে আনলে তা স্থানীয়দের নজরে পড়ে। পরে আখখেতের ভেতরে একটি কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে, এবং খবর পেয়ে আসা স্বজনেরা সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে সেটি ফরিদের বলে শনাক্ত করেন।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে কঙ্কালটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, এবং একই রাতে তা দাফন করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দেহ কঙ্কালে পরিণত হওয়ার কথা নয়। পুলিশের ধারণা, হত্যার পর দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহের অধিকাংশ অংশ নষ্ট করে ফেলা হয়ে থাকতে পারে, যা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল করিম বলেন, “পোশাক দেখে ফরিদের মা-বাবা মরদেহ শনাক্ত করেছিলেন এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর কঙ্কালটি পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।“
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম জানান, মামলার প্রধান আসামি সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ে মরদেহ কঙ্কালে পরিণত হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।



