বগুড়ায় চোর সন্দেহে শামিম হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে রাতভর মারপিট ও পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনরা এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য ও কয়েকজনকে দায়ী করছেন। প্রতিবাদে তারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, চোর সন্দেহে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
স্বজন ও এলাকাবাসীরা জানান, নিহত শামিম হোসেন সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার কুদ্দুসের ছেলে। শামিম আত্মীয়ের দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বারপুর এলাকায় গিয়েছিলেন। তিনি রাতে সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম শাফিসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন। পরে রাতভর শামিমকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়।
শামিমের শাশুড়ি ছোবেদা বেগম অভিযোগ করেন, নির্যাতনের এক পর্যায়ে শামিমের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে শামিম মারা যান। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্বজনরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গাছের গুঁড়ি রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এদিকে, এ ঘটনার ব্যাপারে ওই ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, চোর সন্দেহে শামিম হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



