এক প্লেট গরম ভাত আর তার ওপর ছড়িয়ে দেওয়া একটুখানি ঘি। সঙ্গে যদি থাকে একটু আলু ভর্তা, তবে তো জমে ক্ষীর। বাঙালির পাতে এই ঘিয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আজকের নয় হাজার বছরের।
আর আধুনিক বিজ্ঞান চলছে, পাতে ঘি খাওয়ার বেশকিছু বিজ্ঞানসম্মত কারণও আছে।
ডায়াবেটিসের জন্য ভালো
ভাতে শর্করার মাত্রা বেশি থাকে। আর ঘি কার্বোহাইড্রেট শোষণের মাত্রা করে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে েএই ঘি। রিসার্চগেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র বলছে, তিন মাস ধরে ১০৩ জন টাইপ টু ডায়াবিটিসের রোগীকে নিয়মিত ঘি দিয়ে সাদা ভাত খাওয়ানো হয়। এদের প্রত্যেকের এইচবিওয়ানসি পরীক্ষা শুরুর আগে মাপা হয়েছিল। পরীক্ষার শেষে দেখা যায় ৮৬.৪১ শতাংশ রোগীর এইচবিওয়ানসি-র মান কমেছে। যদিও ১৩.৫৯% অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে এইচবিওয়ানসি বেড়েছে।”
পুষ্টি শোষণেও সহায়ক
রোজ যে খাবার খাওয়া হয়, আর তাতে যা ভিটামিন থাকে, তার অধিকাংশই ফ্যাটে দ্রবণীয়। ধরা যাক ভাতের সঙ্গে গাজর, পালংশাক, কুমড়ো ইত্যাদি খাচ্ছেন। তবে তার সঙ্গে যে ভিটামিন এ, ই এবং কে শরীরে যাচ্ছে, তা শরীর আরও ভাল ভাবে কাজে লাগাতে পারবে যদি সঙ্গে ঘিয়ের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে।
ফ্যাটি অ্যাসিডের গুণাগুণ
কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘিয়ের উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের জন্য ভাল। শরীরের ক্ষত নিরাময়ে এমনকি, ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষাতেও কাজে লাগে ঘিয়ে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড।
প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসায়
যদিও ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে বহু যুগ আগেই বলা হয়েছে ঘিয়ের উপকারিতার কথা। এমনকি, ঘি মেধা বৃদ্ধি, ফুসফুসের স্বাস্থ্যোদ্ধারে, চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল বলা হয়েছে প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্রে। যদিও তা সত্যি কি না, তা প্রমাণসাপেক্ষ।



