গ্রীষ্ম হোক বা বছরের অন্য সময়, দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া, রোদে পোড়া, শুষ্কতা, দাগছোপসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে নিস্তেজও দেখাতে পারে।
বিশেষ করে দিনের তীব্র রোদে বাইরে বের হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি রশ্মি ত্বকের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।আবার আকাশে মেঘ থাকলে ভিন্ন কথা! কিন্তু যখন মেঘ সরে যায়, তখন রোদের তেজ যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়; যা আপনার অজান্তে শারীরিকভাবে নানা ক্ষতি করছে। তাই রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, ত্বকের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
রোদে ত্বক কালো হয় কেন
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে ত্বক নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বেশি পরিমাণে মেলানিন তৈরি করতে পারে। এই মেলানিনের কারণেই ত্বক আগের তুলনায় কিছুটা কালচে বা গাঢ় দেখায়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত রোদে থাকলে ত্বকে কালচে দাগও দেখা দিতে পারে।
রোদ কীভাবে ক্ষতিসাধন করে
রোদের আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভিএ) যেমন ত্বকের ভেতরে ঢুকে ত্বক কালো করে, পাশাপাশি এই রোদে থাকা আল্ট্রাভায়োলেট বি (ইউভিবি) ভিটামিন-ডি তৈরির কাজ করে। তবে এর অতিরিক্ত হলে সানবার্ন তো ঘটেই, বাড়াতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকিও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যালোক সবচেয়ে তেজি। এই সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; অকাল বার্ধক্য হতে পারে।
রোদে ত্বকের যেসব ক্ষতি হতে পারে
ত্বক কালচে হওয়া: দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে ত্বকের রং গাঢ় হয়ে যেতে পারে।
সানবার্ন বা রোদে পোড়া: অতিরিক্ত রোদে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা করা এবং ব্যথা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হওয়া: রোদ ও গরমে ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে।
দাগছোপ তৈরি হওয়া: দীর্ঘদিন সূর্যের আলোতে থাকলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের কালচে দাগ বা অসম রং দেখা দিতে পারে।
ত্বকের বয়সের ছাপ দ্রুত আসা: অতিরিক্ত ইউভি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা দেখা দিতে পারে।
রোদ থেকে ত্বক বাঁচাতে যা করবেন
সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
বাইরে বের হওয়ার আগে ত্বকের খোলা অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু মুখ নয়, ঘাড়, হাতসহ রোদের সংস্পর্শে আসা অংশেও সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় ব্যবহার করতে হবে।
ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন
তীব্র রোদে বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ইউভি সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস চোখের চারপাশের ত্বক ও চোখকে সূর্যের আলো থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
রোদ এড়িয়ে চলুন
সম্ভব হলে দিনের তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকাই ভালো। বাইরে যেতে হলে ছায়াযুক্ত পথ বেছে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে টুপি বা ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
ত্বক আর্দ্র রাখুন
রোদে থাকার পর ত্বক শুষ্ক মনে হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। পর্যাপ্ত পানি পান করাও শরীরের পানিশূন্যতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
পোশাক
গরমের সময় বাইরে বের হলে যতটা সম্ভব সুতি ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো। তবে রোদ থেকে বাঁচতে হলে একেবারে পাতলা কিংবা ঢিলেঢালা পোশাক কার্যকরী নয়।
খাদ্যাভ্যাস
বাইরের যত্নের পাশাপাশি ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং গরমে বা বেশি ঘাম হলে পানির পরিমাণ বাড়ান। ক্ষেত্র বিশেষে লেবুর শরবত পান করা উচিত। ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ ফলমূল ও সবজি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে রাখা ভালো।
রোদে পোড়া ত্বকে কী করবেন?
ত্বক অতিরিক্ত রোদে পুড়ে গেলে ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করা যেতে পারে। ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়। আক্রান্ত স্থানে ঘষাঘষি করা বা জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে এমন প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। তবে ত্বকে ফোসকা পড়া, তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লালচে ভাব বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
রোদে ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া অনেক সময় সাময়িক হলেও অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে ত্বকের আরও ক্ষতি হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন, ছাতা, টুপি ও প্রয়োজনীয় পোশাক ব্যবহার করে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। নিয়মিত ত্বকের যত্নের পাশাপাশি রোদে থাকার সময়ও নিয়ন্ত্রণে রাখুন।



