যতদিন গড়াচ্ছে, চাকরির ধরন ততই কঠিন হয়ে যাচ্ছে, অবস্থা এমনদিকে যাচ্ছে যে, সেই যে সকালে ঢুকলেন, একদম রাত পর্যন্ত টানা কাজ আর কাজ। এ থেকে মুক্তির কোনো সুযোগ নেই।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থের এক গবেষণা বলছে, ডেস্কে বসে একটানা যারা কাজ করেন, তাদের কেবল হার্ট নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লিভারও। সবথেকে বেশি বিপদে পড়ছেন এ কারণে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সীরাই। তাই অল্প বয়সে বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে এই বয়সে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে ক্রমেই।
চিকিৎসকেরা বলছেন, টানা ৭-৮ ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকার নাড়াচাড়া কম হওয়ায় পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পেশি এবং অঙ্গ সঞ্চালনা কম হওয়ায় রক্ত সরবরাহও কমতে থাকে। এরই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকেরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেন। ওজন বশে না রাখলে হৃদ্রোগের আশঙ্কা থাকে। অথচ, বহুক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকার ফলে ওজন বাড়তে থাকে। এই বাড়তি ওজন শুধু হৃদ্রোগ নয়, কোলেস্টেরল, ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।
দিনে ৮ হাজার পা হাঁটেন যিনি তার অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি যিনি দিনে ৪ হাজার পা হাঁটেন তার তুলনায় অনেকাংশেই কম। অর্থাৎ দিনে ৭ থেকে ১০ হাজার পা হাঁটলেই অনেক ধরনের অসুখবিসুখ এড়ানো যায় বলে দাবি চিকিৎসকদের।
যদিও প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজের কারণে কতটুকু হাঁটা উচিত তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি চিকিৎসা বিজ্ঞান। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, দিনে ৩০-৪০ মিনিট হেঁটেই যদি কেউ মনে করেন দায়িত্ব শেষ, তা হলেও বিপদের ঝুঁকি থেকেই যায়।
তাই সুস্থ থাকতে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, সারাদিনই একটু পর পর হাঁটা। ধরুন, কাজের মাঝে ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা পর পর ২-৩ মিনিট হেঁটে নেওয়াই বুদ্ধিমানের। সারাদিন ঠায় না বসে থেকে, স্ট্রেচিং করলে বা দিনে বার কয়েক পায়চারি করলেও কিছু অসুখ ঠেকানো যেতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



