কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের কাজ আট সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
এর আগে, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি হয়।
হাইকোর্টের আগের রায় থাকা সত্ত্বেও সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে - সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর এই আবেদনগুলো দায়ের করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কর্তৃপক্ষকে কক্সবাজার সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ এবং বালিয়াড়ির ওপর নির্মিত সব স্থাপনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে পরে দুই দফায় বেশ কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
বুধবার শুনানিতে বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, “সৈকত এলাকাটি প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) অন্তর্ভুক্ত, তাই যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়।”
তিনি আরও বলেন, “কর্তৃপক্ষ শুধু ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই নির্মাণকাজ শুরু করেছে।”
এই সড়ক প্রকল্পটি সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করছে এবং এটি আদালত অবমাননার শামিল বলে জানান এইচআরপিবির সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরোধিতা করে বলেন, “জনসাধারণের চলাচলের জন্য সরকারের অনুমোদিত একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে।”
অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী সরকারের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন।



