রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মশিউর রহমান উৎস হত্যা মামলার দীর্ঘ ১১ বছর পর রায় ঘোষণা করা হলো। মামলায় রায়ে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ মশিয়ুর রহমান এ রায় প্রদান করেন।
এদিকে, হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহিরন আকতার জুঁইকে মামলা থেকে খালাস দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী উৎসের মা নুরজাহান বেগম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মশিউর রহমান উৎস বাসা থেকে নগরীর জিএল রায় রোডে পত্রিকা অফিসে আসেন। সে সময় মিঠাপুকুর উপজেলার পুর্ব পরিচিত রুবেল নামে এক ব্যাক্তি তার ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে উৎসকে দাওয়াত দেন। উৎস কাজ শেষ করে রাত ৯টায় যাবেন বলে জানান। দাওয়াত খেয়ে ফিরে আসার পথে আসামিরা সাংবাদিক উৎসকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। বস্তায় লাশ ভরে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি জমিতে ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে উৎসের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
এর আগে, বৈরাগিগঞ্জ এলাকার মাদক ব্যবসায়ী জহিরন আকতার জুঁইয়ের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা করা নিয়ে সাংবাদিক উৎস বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন করেন যুগের আলো পত্রিকায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক উৎসকে হত্যার জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকায় আসামির ভাড়া করেন ওই মাদক ব্যবসায়ী জুঁই।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক উৎসের মা নুরজাহান বেগম নিজে বাদী হয়ে মাদক ব্যাবসায়ী জহিরন আকতার জুঁইকে প্রধান আসামি ও আরও ৮ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর এলিন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এলিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দাখিল করে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মামলাটি চলার পর ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আসামি রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। অপর ৩ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
মামলায় রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীভী আব্দুল হাদী বেলাল তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “নিহত সাংবাদিক উৎস মাদকের বিরুদ্ধে অনেক প্রতিবেদন করেছেন। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী জহিরুন আকতার জুঁইয়ের বিরুদ্ধে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন করেছিলেন। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ী জুঁই সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে আসামিদের ভাড়া করে এনে উৎসকে খুন করিয়েছেন। বিজ্ঞ বিচারক হয়তো বিষয়টি গোচরে আনেন নাই।”
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশকান্তি নাগ বলেন, “উৎসকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড হচ্ছেন জহিরন আকতার জুঁই। তিনি খালাস পাওয়ায় আমরা মর্মাহত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবো।”
এদিকে, সাংবাদিক উৎসের মা নুরজাহান বেগম প্রধান আসামি মাদক ব্যবসায়ী জুঁইকে খালাস দেওয়ায় আদালতের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বিলাপ করে বলতে থাকেন, “এ কেমন বিচার হলো। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার কি পাবো না? আমি অবশ্যই এর বিহিত করবো। উচ্চ আদালতে যাব, আপিল করবো।”



