Monday, September 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন

নিহত ব্যক্তি বিএনপির নেতা ছিলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সানিয়াত খান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

টাঙ্গাইলের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলার প্রায় ১৩ বছর পর আদালত রায় দিয়েছেন। 

রায়ে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা ও দণ্ডিত যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 

সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর)দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত -১ এর বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের ছোট ছেলে তৎকালীণ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা (৩০), টাঙ্গাইল সদর থানার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ (২৫) ও দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের শাহজাহান মিয়া (৩১)। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।

এছাড়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর থানার কাঠোয়া যোগনী গ্রামের মো. সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটা গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৩৪), উত্তর কাইয়ামারা নদীর পাড় (চর পাড়া) গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও  ছিটকী বাড়ী গ্রামের রুজবেল ওরফে ইমন। তাদের মধ্যে শফিক ও রুজবেল পলাতক রয়েছেন।

রায়ে সঞ্জিত ঘোষ (২৬) নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সঞ্জিত ঘোষ টাঙ্গাইল সদর থানার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে। তিনি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুজন ও সানোয়ার হোসেনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে হাঁটতে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি আবার অভিযোগপত্র জমা দেন। এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়। সমস্ত সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

টাঙ্গাইল জজ কোর্টের  অতিরিক্ত পিপি সাইদুল রহমান স্বপন বলেন, “তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। বিচার শেষে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককেই আরো  একবছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।”

নিহতের পরিবারের সদস্য বলেন, “আমরা রায়ে সন্তুষ্ট নই৷ সকল আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।  প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাবো। বিষয়টি প্রধানমসন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি৷”

   

About

Popular Links

x