Saturday, September 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মেঘনায় ট্রলারডুবি, এখনো সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ৪ জনের

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে  

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের সন্ধান এখনও মেলেনি। নিখোঁজ চারজনই কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি চালিয়েও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার সামনে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঝড়ো বাতাসে ১৩ যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়। তারা হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের আত্মীয় সাজিয়া আক্তারের বিয়েতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসিও নেওয়া হয়েছিল।

নিখোঁজ চারজন হলেন - হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্ধী গ্রামের অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিন (৫৪), তাঁর ছেলে সজীব হোসেন (২৪), ছেলে সামিন হোসেন (৫) ও মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭)।

এ ঘটনায় রায়সা খাতুন (৪০) নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানপর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী এবং নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের ফুফু।

নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, পথে হঠাৎ মেঘনা নদীতে ঝড়ো বাতাস শুরু হলে প্রবল ঢেউ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ট্রলারে পানি উঠতে শুরু করে এবং সেটি ডুবে যায়। কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সেখান থেকে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নদী থেকে একজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিরিন বেগম জানান, তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ট্রলারে করে রওনা হয়েছিলেন। পথে ট্রলারটি ডুবে গেলে পরে সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার এসে তাদের উদ্ধার করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ট্রলার থেকে নয়জনকে উদ্ধার করা হয়।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, “ট্রলারডুবির ঘটনাস্থলে নদীতে প্রচণ্ড স্রোত রয়েছে। ঘটনার রাতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। শুক্রবার সকালে আবার অভিযান শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।”

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, “নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে দিনভর অভিযান চালানো হলেও কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল।

   

About

Popular Links

x