নেত্রকোণার সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর নদীর তীরের মাটি খুঁড়ে নাজু আক্তার (৩৪) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের নদীর তীর থেকে নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাজু নেত্রকোণা পৌর শহরের কাটলী এলাকার প্রয়াত ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। তার সাবেক স্বামী নুরুল আমীন সদর উপজেলার নগুয়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু ও নুরুলের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর প্রায় আড়াই বছর আগে তাদের মধ্যে দুই দফায় বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দেনমোহর বাবদ নুরুল দুই দফায় দুই লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
পরে নাজু নুরুলের বিরুদ্ধে খোরপোশ ও ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা মীমাংসার জন্য নাজু পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। আরেক মামলার রায়ে নাজুকে খোরপোশ দেওয়ার জন্য নুরুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি নাজুকে খোরপোশ দিয়ে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খেতের জন্য কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে গেলে নাজুর সঙ্গে নুরুলের দেখা হয়। নাজু তার কাছে টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মুঠোফোন নিয়ে তাদের মধ্যে টানাহেঁচড়াও হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের বিরোধ মিটিয়ে দেন।
পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে নাজুকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন নুরুল। পুলিশের ভাষ্য, বাড়ির কাছাকাছি খাটপুড়া সেতুর কাছে আবারও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে মোটরসাইকেলচালক তাদের সেখানে রেখে চলে যান।
নাজু বাড়িতে না ফেরায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শুক্রবার দুপুরে নুরুল আমীনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল নাজুকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা জানান। পরে নদীর তীরে গর্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখার কথাও জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নদীর তীরের মাটি খুঁড়ে নাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, নাজুর মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগসহ অন্যান্য জিনিসপত্র গ্রামের একটি শ্মশানের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, “নাজুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”



