জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সাফল্যজনক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তুরস্ক, জাপান ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। একই সাথে সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরেও দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে তোড়জোড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বৈঠকে আলোচনার পর আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-৩১’-এ অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে টোকিও সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে এপ্রিলে জাপানের নেতৃত্বে আয়োজিত এশীয় আঞ্চলিক জ্বালানিবিষয়ক ভার্চ্যুয়াল শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
পাশাপাশি সৌদির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ মারফত পাঠানো যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করে যৌথ সুবিধাজনক সময়ে আগামী নভেম্বরে রিয়াদ সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান। চিঠিতে ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির তাগিদ দেন সৌদি যুবরাজ।
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের নভেম্বরে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির দিকেও নজর রাখছে ঢাকা।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মাসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘খুব শিগগিরই হওয়া উচিত’ এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্বর্ণালি অধ্যায় দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘‘বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব, আর আমি খুবই আশাবাদী।’’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাতটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।



