আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে প্রায় ৫০০-৬০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। কয়লা সংকটের কারণে ভারতের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কেন্দ্রটির ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-১ ট্রিপ করায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৬টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে ৫০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানায়, ইউনিটটি আবার চালু করতে চার দিন সময় লাগবে বলে তাদেরকে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার।
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কয়লা সংকটের কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। এর মধ্যে ইউনিট-১ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে।”
তিনি জানান, বুধবার দুপুর ১টায় কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে ৫০৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এরপর থেকে সরবরাহ ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াটের মধ্যে রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিবি) ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পিক আওয়ারে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৮৩৪.১৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ কমার কারণ হিসেবে কয়লা সংকটের কথা উল্লেখ করেছে পিজিবি।
এর আগের দিন, ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ৮২২.৫৮ মেগাওয়াট, যদিও ওই দিন কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ছিল ১,৪৯৬ মেগাওয়াট।
কয়লা সংকট দেখা দেওয়ার আগে কেন্দ্রটি থেকে পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২৭ সেপ্টেম্বর সরবরাহ ছিল ১,৩২৩.০৬ মেগাওয়াট এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ১,৩০৮.৮৭ মেগাওয়াট।
এদিকে, আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। একই সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে।
আদানি ও আরও কয়েকটি বড় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর—দুই দিনই দেশে লোডশেডিং ২,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।



