Thursday, October 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ায় দুই শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ৬০ বছর কারাদণ্ড

আদালতের পিপি জানান, একটি মামলার সাজা শেষ হওয়ার পর অপর সাজা শুরু হবে

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

বগুড়ার কাহালুতে ছয় বছরের দুই শিশুকে ধর্ষণের মামলায় নুর ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুটি মামলায় তাকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী দুই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পিপি আবদুল মান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলা ও আদালত সূত্র জানায়,  নুর ইসলাম বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা।

গত ২০২৫ সালের ১২ মার্চ বেলা ১১টার দিকে ছয় বছর বয়সী দুই শিশু তাদের বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় তাদের কর্মজীবী বাবা ও মা বাহিরে ছিলেন। এ সুযোগে নুর ইসলাম খাবারের প্রলোভনে দুই শিশুকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তাদের ধর্ষণ করেন। এছাড়া ধর্ষণের কথা কাউক জানালে তাদের হত্যার ভয় দেখানো হয়। ধর্ষণের শিকার এক শিশুর পরদিন রক্তক্ষরণ ও অপরজনের শরীরে জ্বর আসে। এতে শিশুর পরিবার টের পেলে অভিযুক্ত নুর ইসলাম পালিয়ে যান।  ধর্ষণের শিকার এক শিশুর মা কাহালু থানায় নুর ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পুলিশ নির্যাতনের শিকার দুই শিশুকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে। তাদের ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে ২২ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পরবর্তীতে থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযানে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে শিশুদের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আবদুল মান্নান বলেন, “আদালত সার্বিক বিষয় ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে দুটি পৃথক মামলায় নুর ইসলামকে ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একটি সাজা শেষ হওয়ার পর অপর সাজা শুরু হবে। ”

‍তিনি আরও বলেন, “আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার এক লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেওয়া হবে।”

   

About

Popular Links

x