দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার আলোচিত সাবেক সদস্য সচিব মাহদী হাসান। জ্যামাইকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইমিগ্রেশনে তাকে আটকে দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরে কর্মরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তাকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে মাহদীর ওপর আপত্তি থাকায় তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মাহদী হাসান নিজেই সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার জ্যামাইকা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে আটকে দেওয়া হয়।
মাহদীর দাবি, তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় তিনি জামিনে আছেন। তবু বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় তাকে। পরে তিনি বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে তৎকালীন ওসিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া মাহাদী হাসানের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।” ভিডিওটি প্রকাশের পর তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
এই ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে হুমকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি পুলিশ মাহদি হাসানকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি। পরে মাহদি দাবি করেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অসাবধানতাবশত তার মুখ থেকে ওই কথা বেরিয়ে গিয়েছিল।



