Sunday, October 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে প্রাণ গেল সিএনজিচালকের হাতে

আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছেন বলে মাকে জানিয়ে বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি কক্সবাজার যান ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত রাজু চৌধুরীর (২০) ডাকে। রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। দুজনের পরিচয় মাত্র ১৭ দিনের।

চার দিন নিখোঁজ থাকলেও ঠিক কবে তিনি কক্সবাজার গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের সূত্র বলছে, বাসা থেকে বের হওয়ার প্রথম দিন তার মোবাইল ফোনের অবস্থান পাওয়া গেছে পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এরপর তিনি কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজার যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনি কার কাছে ছিলেন বা কতক্ষণ ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি।

কক্সবাজারের একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ জানান, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর ওই কিশোরী ও রাজু বাসের টিকিট কাটতে তাদের কাউন্টারে আসেন। বুধবারের জন্য একটি টিকিট কাটেন রাজু। তখন তাদের সাধারণ গ্রাহক হিসেবেই মনে রেখেছিলেন বলে জানান আবদুল্লাহ। হত্যাকাণ্ডের খবর আলোচনায় আসার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেন এবং কিশোরীকে শনাক্ত করেন। পরে জানতে পারেন, সঙ্গে থাকা ছেলেটি হত্যায় জড়িত নন।

বিভিন্ন সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা আইকনিক এক্সপ্রেস বাসটি রাতে কুমিল্লায় পৌঁছায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় হোটেল নূরজাহানের সামনে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাস থেকে নামেন ওই কিশোরী। এরপর তিনি কয়েকটি দোকানে ফোন চার্জ দেওয়ার চেষ্টা করেন। একটি দোকানে শেষ পর্যন্ত চার্জের ব্যবস্থা করে দেন এক দোকানদার।

পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজারে নেমে শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যেতে একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেন ওই কিশোরী। চালক সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে একজনই জড়িত, সিএনজিচালক সুমন মিয়া।

কক্সবাজারের কলাতলীর ডলফিন মোড়ের দুবাই রিসোর্ট নামের আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন রাজু চৌধুরী। বাড়ি চকরিয়ার লামা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের বরছনখোলা গ্রামে। হোটেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশি ঝামেলার ভয়ে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তার বিষয়ে এর বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরীর মা সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন মেয়ে জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলে মেয়ে বান্ধবীর নাম বা তার বাবা-মায়ের পরিচয় জানায়নি। মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি, চলাফেরার দিকেও নজর রাখতেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মা যে বান্ধবীর কথা বলছেন, তিনি বয়সে বড়। হত্যাকাণ্ডে তার বা তাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি।

কিশোরীর এক শিক্ষক জানান, তিনি দীর্ঘদিন তাকে পড়িয়েছেন। সে চঞ্চল স্বভাবের ছিল। মা অসুস্থ হলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখভাল করত। বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন, সকালে বের হয়ে রাতে ফেরেন, তবে মেয়েকে খুব আদর করতেন।

   

About

Popular Links

x