কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় কক্সবাজারে আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে (২০) না নিয়েই ফিরে এসেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডে রাজুর সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাকে কক্সবাজার সদর থানায় রেখেই আসা হয়েছে বলে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশের মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র লুৎফর রহমান।
এর আগে রবিবার রাতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে কক্সবাজারের কলাতলী বিচ থেকে রাজুকে আটক করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। সোমবার সকালে তাকে নিতে কক্সবাজার যায় কুমিল্লা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি দল। সে সময় রাজুকে থানা থেকে বের করে ডিবির একটি গাড়িতে তুলতে দেখা যায়। তাকে গ্রহণের পর ডিবির দলটি ছবিও তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত রাজুকে সঙ্গে না নিয়ে সদর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে রেখে চলে যায় তারা।
আসামি গ্রহণের বিষয়ে এসআই পবিত্র সরকারের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, লালমাই থানার ৪ নম্বর মামলার (৮ অক্টোবর ২০২৬, জিআর নং ১১৮, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা) তদন্তে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে ওই শিক্ষার্থী কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় ছিলেন এবং সেখানে রাজুর সঙ্গে তার দেখা হয়। ঘটনার আগে তাদের মধ্যে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগেরও তথ্য মিলেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তাদের পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, যোগাযোগের কারণ এবং মামলার ঘটনা সম্পর্কে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য আছে কি না, তা জানতে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে। চিঠিটি কক্সবাজার সদর মডেল থানার জিডি নং ৮৯৩ (১৩.১০.২৬) হিসেবে নথিভুক্ত।
সকালে রাজুকে গ্রহণের মর্মে একটি চিঠি প্রতিবেদকের হাতে আছে জানালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, "আমরা গ্রহণ করিনি। আপনারা রিপোর্ট করুন।" হত্যাকাণ্ডে রাজুর সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তাকে নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ওসি তাকে জানিয়েছিলেন যে কুমিল্লার দল আসামিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি শুনেছেন, তারা নেয়নি। এখন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।



