Thursday, October 15, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাভারে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে চালকদের বিক্ষোভ

 এ সময় কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর ও চালকদের মারধরের ঘটনাও ঘটে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ এএম

গ্যারেজভাড়া কমানো, চার্জিং ফি নির্ধারণ ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ঢাকার সাভারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করছেন চালকদের একটি অংশ। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেন তারা। এ সময় কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর ও চালকদের মারধরের ঘটনাও ঘটে।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দেড় বছরে কয়েক দফায় গ্যারেজভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার গ্যারেজমালিকেরা অটোরিকশাপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেন। এর প্রতিবাদে চালকেরা সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামী তিন দিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল মধ্যরাতে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এ সময় সব চালককে আজ গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা বের না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আজ সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে লাঠিসোঁটা হাতে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল, কোনো সড়ক বা লেনে যেন অটোরিকশা চলাচল করতে না পারে। এ জন্য সড়ক-মহাসড়কে অটোরিকশা দেখলেই থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কিছু অটোরিকশা আটকে রাখেন আন্দোলনকারীরা। তবে অন্য কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলে তাদের বাধা দিতে দেখা যায়নি।

সকাল থেকে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও কর্মবিরতির মাধ্যমে সমর্থন জানানো একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে এসব এলাকার গ্যারেজে অটোরিকশাপ্রতি ব্যাটারি চার্জিং বিলসহ ১৫০ টাকা নেওয়া হতো। গত দেড় বছরে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার অজুহাতে গ্যারেজমালিকেরা কয়েক দফায় ভাড়া বাড়ান। সর্বশেষ গতকাল সেই ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আন্দোলনরত চালকদের দাবি, বর্ধিত গ্যারেজভাড়া অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকভাবে গ্যারেজভাড়া নির্ধারণের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের ভাড়াও বাড়াতে হবে।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাভার পৌর এলাকার ব্যাংকটাউন, কাতলাপুর, গেন্ডা, উলাইল ও তালবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোনো সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়নি।

তবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কিছু অটোরিকশাকে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যায়। মহাসড়কের উলাইল স্ট্যান্ডে এসব অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কয়েকটি অটোরিকশার চাকার হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হয়। যাত্রী পরিবহনের কারণে কয়েকজন চালককে মারধর করতেও দেখা যায়।

আন্দোলনের বিভিন্ন স্থান ঘুরে কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

বেলা পৌনে একটার দিকে অটোরিকশাচালকদের একটি অংশ সাভারের তারাপুর মাঠে জড়ো হন। পরে তারা মুক্তির মোড় এলাকায় একটি রোগীবাহী অটোরিকশাসহ অন্তত তিনটি অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। এ সময় সেখানে বিক্ষোভও করেন তারা।

মো. ময়নাল হোসেন নামে এক অটোরিকশাচালক জানান, ব্যাটারি চার্জে বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর কারণে গ্যারেজমালিকরা অটোরিকশার ভাড়া বাড়িয়েছেন। এ জন্য তারা গ্যারেজ ভাড়া কমানো ও চার্জিং ফি কমানোর দাবিতে এই আন্দোলন করছেন। দাবি আদায় না হলে এই কর্মসূচি চলবে।

মুক্তির মোড়ে অবস্থান নেওয়া চালকদের সঙ্গে কথা বলেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম। তিনি আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে তারা ওসির কথায় সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠীর কোনো হাত বা হীন কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না।

   

About

Popular Links

x