কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডটি রিসোর্টের রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা থেকে শুরু হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুন নেভানোর পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ৯ জন পর্যটকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্তত চারজনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনে বাঁশ-কাঠের তৈরি পুরো রিসোর্টটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন অগ্নিকাণ্ডের কারণ প্রসঙ্গে জানান, সকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। শর্টসার্কিট দেখে রিসোর্টকর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের ভেতরে থাকা এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) ও গ্যাসের সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে মুহূর্তেই কাঠের তৈরি ৯ কক্ষবিশিষ্ট পুরো স্থাপনাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। এ পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আগুনের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে। যাদের ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতরা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। অন্য দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সি ফায়িজান আহম্মেদ।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের দলটির পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এম এন সাজেদুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশি উদ্ধার ও নিরাপত্তার কাজ জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আহ্বান জানান।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় পাটোয়ারটেক এলাকার বাসিন্দা হারুন, নুরুল কবির ও ফরিদ জানান, সকালে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে পর্যটকেরা দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে এলেও আগুনের তীব্রতার কারণে প্রথম দিকে ভেতরে প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।



