“আর ১০টা মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নিচে নেমে আসতে পারত।” কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে বুকফাটা কান্নায় এভাবেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আশিকুল ইসলাম। ইনানীর একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে এখন নিঃস্ব তিনি।
স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন আশিকুল ইসলাম। ওঠেন উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ। শনিবারই তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক বিপর্যয়।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আশিকুল জানান, শনিবার ভোরে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে তার স্ত্রীই তাকে ডেকে তোলেন। ঘুম ভাঙার পর তিনি দ্রুত পাশের কক্ষে থাকা অন্য স্বজনদের ডাকতে যান। এর মধ্যেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে এবং কক্ষের চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। কোনো উপায় না দেখে তিনি একটি জানালা ভেঙে লাফ দিয়ে নিচে নেমে জীবন বাঁচান। কিন্তু তার স্ত্রী ও অন্য স্বজনেরা আর বের হয়ে আসতে পারেননি।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে এক শ্যালিকার স্বামী চুয়াডাঙ্গায় চলে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে তাদের পরিবারের মোট নয়জন সদস্য অবস্থান করছিলেন। এদের মধ্যে আশিকুলের মামা-শ্বশুর মাসুদ ও তার স্ত্রী মিলা দগ্ধ ও আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের ঢাকায় রেফার করেন।
আশিকুলের দেওয়া তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের যে ছয় সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন, তারা হলেন- আশিকুলের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, ফারিহা কবির এবং তাদের স্বজন পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহমদ ও নাফিস তেহামি জেরিফ।
এদিকে শনিবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান সদর হাসপাতালে আহত ও স্বজনদের দেখতে যান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়া আশিকুল জেলা প্রশাসকের কাছে তার নিখোঁজ স্বজনদের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক সংবাদমাধ্যমকে জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনায় উদ্ধার করা মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই মরদেহগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ইনানীর ওই কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে রিসোর্টটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।



