ঝালকাঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত ভবনে নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করেছে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)। এ নিয়ে ঝালকাঠি শহরের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার ঝালকাঠির কোর্ট রোড এলাকায় এনসিপির জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধনের পরপরই সেখানে কার্যক্রম শুরু হয়। ভবনটিতে ইতোমধ্যে এনসিপির সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এইচ এম জাকির হোসেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত ভবনের মালিক ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার। ভবনের তৃতীয় তলায় এনসিপির এই কার্যালয় চালু করা হয়েছে। পূর্বে এই ভবনেই পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিচালনা করতেন লিয়াকত আলী। তৎকালীন সময়ে কার্যালয়টির উদ্বোধন করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু।
আওয়ামী লীগ নেতার ভবনে এনসিপির কার্যালয় উদ্বোধন ও দলীয় কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনদের নানা মন্তব্য ও সমালোচনা চোখে পড়ছে।
এ বিষয়ে ভবন মালিক লিয়াকত আলীর ছেলে মিঠু তালুকদার জানান, তার বাবা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র থাকাকালে সেখান থেকে দলীয় ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালিত হতো। তবে সেই কার্যালয় বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই। দীর্ঘদিন তিন তলার ফ্ল্যাটটি খালি পড়ে থাকায় এনসিপি নেতাদের যোগাযোগের প্রেক্ষিতে তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
মিঠু তালুকদার বলেন, “আমরা কোনো দলীয় অফিস ভাড়া দিইনি, আমাদের ভবনের একটি খালি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছি। এখানে সমস্যা দেখার কিছু নেই। বিষয়টিকে গণমাধ্যমকর্মীরা অযথা জটিল বানাচ্ছেন।”
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “আমরা ভবনের তৃতীয় তলায় একটি কক্ষ দলীয় কার্যালয়ের জন্য চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া নিয়েছি। সেখানে আগে কী ছিল না ছিল তা দেখার বিষয় নয়। ব্যক্তিগতভাবে সেখানে আগে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ছিল কিনা তাও আমার জানা ছিল না।”
এদিকে ঝালকাঠির স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর লিয়াকত আলী তালুকদার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন, তবে মাঝেমধ্যে ঝালকাঠিতে তাকে দেখা যায়। লিয়াকত আলী আওয়ামী লীগ আমলে টানা ১০ বছর পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, লিয়াকাত আলী তালুকদার নতুন করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও ঘুরে দাঁড়াতে এনসিপির ওপর ভর করার চেষ্টা করছেন। সেই উদ্দেশ্যেই কম ভাড়ায় এনসিপিকে কার্যালয়টি ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেকে।



