Sunday, October 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন তিনি

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ এএম


গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী মেয়ে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে এবং আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। 

মোসলেম আহম্মদ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কর্তিবাড়ী (মাস্টারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তিনি টঙ্গীতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

অপরদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর এবং মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে শিশুটির পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “শিশুটি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে।” একই দিন শিশুটির বাবার করা মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। 

ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ তদন্ত করতে মাদ্রাসায় যায় এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এছাড়া ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে প্রাথমিকভাবে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

ওসি আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে। এখনও তদন্ত চলমান আছে।”

গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) টঙ্গীর স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ওই শিশুকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।

২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। 

অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষর  অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে ওই শিক্ষককে মারধর করেছে। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। 

অভিযোগ মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটেরও উল্লেখ করেন তিনি। এসব অভিযোগ এনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

তবে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনও ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা। এসময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন ওই বাবা।

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার মাদ্রাসার ভেতরে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন ওই শিক্ষক। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেন তিনি। 

   

About

Popular Links

x