Sunday, October 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘অপরাধী শিক্ষকদের বাঁচাতে সত্য আড়াল করলে মাদ্রাসার চূড়ান্ত ক্ষতি হবে’

‘অপরাধ প্রমাণের আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও বিপজ্জনক প্রবণতা’

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

মাদরাসায় শিশু নিপীড়নসহ নানা অনাচার রোধে মাদ্রাসার শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের আরও জোরালো ভূমিকা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণের আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিপজ্জনক প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষককে আড়াল করার চেষ্টা করে কিংবা সত্য ধামাচাপা দেয়, তবে তা পুরো মাদ্রাসাব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের লুকোচুরি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং তখন শুধু আফসোস করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘‘মাদ্রাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যেসব অভিযোগ শোনা যায়, তার অধিকাংশই মূলত কিছু ভুঁইফোড় ও মানহীন বেসরকারি মাদ্রাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর অপকর্মের কারণে পুরোমাদ্রাসাব্যবস্থা আজ গভীর হুমকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনভিপ্রেত এসব অনাচার বন্ধে মাদ্রাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আলেমসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।’’

তিনি জানান, মাদ্রাসার এ ধরনের অপরাধ রোধে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তৈরি করে তিনি অনেক আগেই মাদ্রাসার অভিভাবকতুল্য ৩০ জনের বেশি শীর্ষস্থানীয় আলেমের কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রস্তাবনাটি নিজের ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করেন তিনি।

মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটা বিভিন্ন অনাচারের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কথা বলে আসছেন উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কিংবা কোনো পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে দাফতরিক সংশ্লিষ্টতা না থাকায় লেখা ও বক্তব্যের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি এবং দাবি জানানো ছাড়া সরাসরি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তার নেই। তবে সুযোগ থাকলে তিনি এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতেন বলে জানান।

আবাসিক মাদ্রাসাগুলোকে দেশের লাখ লাখ এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং দীনি ইলমের দুর্গ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের মনে মাদ্রাসাব্যবস্থার প্রতি আস্থা অটুট রাখতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্ণধার ও শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সর্বশক্তি দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাছে এর বড় দায় তাদেরই বহন করতে হবে।”

এদিকে অনাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি টঙ্গীর একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এক মাদরাসা শিক্ষককে বিচার করে ফেলা হয়েছে। অথচ পরবর্তীতে তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যে অপূরণীয় ক্ষতি হবে, তা কি অভিযোগকারী বা বিচার করে ফেলা ব্যক্তিরা পুষিয়ে দিতে পারবেন?

তিনি আরও বলেন, ‘‘অতীতেও এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। তাই সব ক্ষেত্রে আবেগ ও ক্ষণিকের ক্রোধে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। ধর্ম অবমাননাসহ যেকোনো সংবেদনশীল ইস্যুতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও স্মরণ করিয়ে দেন এই বিশিষ্ট দাঈ।’’

   

About

Popular Links

x