রংপুরের মিঠাপুকুরে খালিদ হাসান নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনগত রাত ২টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের মাঠেরহাট খিয়ারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন।
খালিদ হাসান খোড়াগাছ ইউনিয়নের রূপসি গাছুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবার ও স্বজনরা খালিদের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাঠেরহাট খিয়ারপাড়া গ্রামের মুদি দোকানদার আবু হোসেন দোকানদারি করে বাসায় ফেরার সময় দেখতে পান এক যুবক তার বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছে। তিনি ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে খালিদ হাসানকে আটক করে। এরপর সারা রাত ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এমনকি তার হাত, পা ও কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গণপিটুনিতে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে খালিদ হাসানের মৃত্যু ঘটে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর ভাই গালিব হোসেন জানান, খালিদ অবিবাহিত এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। দেড় মাস আগে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে বাড়িতে আনা হয়। তার দাবি, মুদি দোকানি আবু হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে খালিদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুদি দোকানদার আবু হোসেন স্বপরিবারে পলাতক থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. রুহুল আমিন জানান, খালিদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। খালিদকে আটক করার পর পুলিশে খবর দেওয়া যেত। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।



