Wednesday, October 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জরুরি ওষুধ আর রোগী পরিবহন নিয়ে শঙ্কা, অবরোধে দুর্ভোগে সাজেকবাসী

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

পাঁচ দফা দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। পর্যটক না থাকায় ব্যবসায়ীদের আয় বন্ধ, অন্যদিকে যান চলাচল না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

সাজেক রাঙামাটির অন্তর্ভুক্ত হলেও পর্যটনকেন্দ্রটির পরিবহন, আবাসন, খাবার ও বিপণন ব্যবসার সঙ্গে খাগড়াছড়ির বহু মানুষ যুক্ত। ফলে অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ওপরও। খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন সমিতির নেতা আয়ুস কান্তি চাকমা বলেন, “সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব যানবাহন এখন অচল। শত শত গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন, তাদের পরিবারও কষ্টে আছে। মানবিক বিবেচনায় অবরোধ শিথিল বা স্থগিত করা উচিত বলে মনে করি।“

একসময় পর্যটকের পদচারণে মুখর সাজেকের রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। আয় বন্ধ থাকলেও দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও পরিবারের খরচের চাপ রয়ে গেছে। দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতির পাশাপাশি বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। সাজেকের এক বাসিন্দা বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে ওষুধ সংগ্রহ ও রোগী পরিবহন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।“

সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইহাটের উজো বাজারে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য, দুই জেলার জেলা প্রশাসক এবং অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা মতবিনিময় সভা হয়। পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি, ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও আসেনি। কটেজ মালিক যুবরাজ মিয়া বলেন, “দুই জেলার সংসদ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেছেন, কিন্তু সংকটের সমাধান এখনো হয়নি।“

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের নেতা বাবুধন চাকমা বলেন, “মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে বিনোদনকেন্দ্র চালু রেখে কী হবে।“ তার অভিযোগ, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার পর থেকে স্থানীয় পাহাড়িরা ভূমি হারিয়েছেন এবং ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে এখন অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসন চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ত্রাসীদের সরিয়ে দিতে পারে, তা করা হলে সাজেকবাসী অবরোধ তুলে নেবে।

   

About

Popular Links

x