Wednesday, October 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, পর্যটকদের বুধবারের মধ্যে ছাড়ার অনুরোধ

তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে সাজেক সড়কে এ কর্মসূচি শুরু হবে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে সাজেক সড়কে এ কর্মসূচি শুরু হবে। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের আজ বুধবারের মধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটি ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে অবরোধের বিষয়টি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে ফের অবরোধ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। ওই দিন বিকেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ স্থগিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ হয়নি অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর তারা পুনরায় সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ পালন করে। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।

সর্বশেষ বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের আগের স্থানগুলোতেই অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, সশস্ত্র গ্রুপের কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চলছে। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সশস্ত্র সদস্যরা শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছেন এবং গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছেন। ভয়ে জুমচাষিরা জুমে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কারের কাজেও যেতে পারছেন না। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষায় সশস্ত্র সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।

আগের অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের চরম ভোগান্তি হয়েছিল। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হাটের দিনেও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়, পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্থানীয় চাষিরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছিল। এবার অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আগের অবরোধের সময় আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় গাড়িবহর চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও উজো বাজার এলাকায় তা আটকে দেন অবরোধকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর পর্যটকবাহী গাড়িবহর চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যা ১৫ অক্টোবর প্রত্যাহার করা হয়। নতুন করে অবরোধ ঘোষণায় সাজেকের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন কার্যক্রম আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবরোধ চলাকালে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মরদেহবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহন কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

   

About

Popular Links

x