Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নীলফামারীতে এনজিওর কিস্তি আদায়ের অভিযোগ

‘আটোরিক্সা কিনতে আমার স্ত্রীর নামে পপি থেকে ঋণ নিয়ে ছিলাম। মাঠকর্মীরা সমস্যার কথা জানলেও বাড়িতে গিয়ে কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে’

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০১:৪৬ পিএম

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সরকার জুন পর্যন্ত এনজিওর কিস্তি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও নীলফামারী পৌরশহরে সেই নির্দেশনা অমান্য করে কিস্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন (পপি)।

এছাড়াও কিস্তির টাকা তোলার জন্য সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে আয় উপার্জন ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। 

সূত্র জানায়, এই উপজেলায় প্রায় ৩০-৩৫ টির মতো ছোট বড় বিভিন্ন এনজিও চালু আছে।

নীলফামারী পৌরশহরের নিউ বাবুপাড়া মুরগি হাটি এলাকার হায়দার আলী বলেন, সামান্য অটো রিক্সা চালিয়ে রোজগার করি। করোনাভাইরাসে যাত্রী না থাকায় একেবারে রোজগার বন্ধ। আটোরিক্সা কিনতে আমার স্ত্রীর নামে পপি থেকে ঋণ নিয়ে ছিলাম। মাঠকর্মীরা সমস্যার কথা জানলেও বাড়িতে গিয়ে কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে।

একই এলাকার ওই পপির সদস্য উলফতে সদস্য নং-৫ বলেন, ব্যবসার জন্য পপি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছিলাম। ওই টাকা দিয়ে ঘর বাড়ি মেরামত করেছি। কিন্ত করোনার কারণে আমার স্বামীর আয় কম হওয়ায় টাকা পয়সার অভাবে পড়েছি। এমন অবস্থায় পপির মাঠ কর্মীরা ঋণের কিস্তির টাকার চাপ প্রয়োগ করছে। আজও (সোমবার) বাড়িতে এসে তারা টাকা ছাড়া উঠে না।

জেলা শহরের ডাল পট্টি এলাকায় নৈশ প্রহরীর কাজ করেন মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, স্থানীয় পপি নামের একটি এনজিও থেকে কিছু টাকা লোন নিয়ে তার বড় ছেলে মুরগীর ব্যবসা করে। করোনার কারণে হাট বাজারে লোকজন কম থাকায় বেচাকেনা একেবারেই কম। এখন সেই টাকার জন্য কঠিনভাবে চাপ প্রয়োগ করছে।  

সোমবার (৮ জুন) সকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পপির মাঠকর্মী বলেন, “করোনা সংকটে আমাদের সদস্যদের বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। এরপর তাদের কিস্তি পরিশোধের কথাও বলছি। কেউ কিস্তি দিলে নিচ্ছি না দিলে নিচ্ছি না। তাদের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। এই অভিযোগ সত্য নয়।”

এ বিষয়ে কথা বলতে পপির এরিয়া ম্যানেজার তন্ময় কুমারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি।

নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. এলিনা আকতার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর করোনা পরিস্থিতে কিস্তি আদায় সরকার বন্ধ ঘোষণা করেছে। এটি বন্ধ থাকবে চলতি জুন মাস পর্যন্ত। পরবর্তী সিন্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এটিই বহাল থাকবে। এ বিষয়ে উপজেলার সকল এনজিওকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরেও কেউ কিস্তি আদায় করলে অভিযোগের ভিত্তিতে সেই সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links