টাঙ্গাইলে আদালত না বসলেও শিশু ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এই আদেশ দেন।
আদালত না বসিয়ে জামিন হওয়ার খবরটি বুধবার (৬ জানুয়ারি) ছড়িয়ে পড়লে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জনসহ আসামি পক্ষের আইনজীবীকে “টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিত” থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি ওঠে। পরে বার সমিতির এক জরুরি সভায় আসামি পক্ষের আইনজীবীকে একমাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম মঙ্গলবার ইন্তেকাল করেন। নিয়ম অনুযায়ী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলামের মৃত্যুতে মঙ্গলবার সকালে জেলা জজ আদালতে ডেথ রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ওই দিনের জন্য জেলার সকল আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম মূলতবি ঘোষণা করেন জেলা জজ ফাহমিদা কাদের। অথচ আদালত না বসলেও মঙ্গলবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর এক শিশু ধর্ষণ মামলার আসামিকে শিশু আদালতের বিচারক হিসেবে জামিন দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপিকেও জামিন শুনানির বিষয়টি জানানো হয়নি। আসামির জন্য জামিনের আবেদন করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাইফুল আলম টিটু। কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকার দিনে এভাবে আসামি পক্ষে জামিনের আবেদন করে তিনি নিজেও এখন তোপের মুখে পড়েছেন।
জামিনপ্রাপ্ত আসামির (১৬) বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া গ্রামে।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, গত রবিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে মধুপুরের রক্তিপাড়া গ্রামের এক শিশুকন্যাকে ফুঁসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন সোমবার (৪ জানুয়ারি) সকালে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরই আসামিকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে আসামি টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (মধুপুর আমলী আদালত) আদালতে হাজির করা হয়। আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম তাকে নথিসহ শিশু আদালতে প্রেরণ করেন। কিন্তু আদালত না বসলেও সেখান থেকে আসামি জামিন পাওয়ায় দেখা দেয় বিপত্তি।
অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার শিশুকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভিকটিম মঙ্গলবার আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। তবে রহস্যজনকভাবে ধর্ষণ মামলার আসামিকে এভাবে জামিন দেওয়ায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ বলেন, “মামলাটির জামিন শুনানির বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী বা কোর্ট থেকে তাকে অবহিত না করেই এই জামিন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।”
টাঙ্গাইল জেলা অ্যাভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম নাছিমুল আক্তার বলেন, “এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে বার সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ সাইফুল আলম টিটুকে একমাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সাথে বৃহস্পতিবার বার সমিতির পক্ষ থেকে জেলা ও দায়রা জজের সাথে সাক্ষাৎ করে শিশু আদালতের বিচারকের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”



