Saturday, June 06, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পুলিশ চেকপোস্টে মায়ের ফেলে যাওয়া শিশুরা ফিরল দাদির কাছে

দুই শিশু সন্তানকে পুলিশ সদস্যদের সামনে রেখে 'তোমাদের সন্তান তোমাদের কাছেই থাক' বলে চলে যান তাদের মা

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৭ পিএম

পেশায় পুলিশ কনস্টেবল সাবেক স্বামী সন্তানদের ভরণপোষণ দিতেন না। তাই জমজ দুই শিশুকে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যলায়ের চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সামনে রেখে দিয়ে যান। যাওয়ার সময় বলেন, “তোমাদের (পুলিশের) সন্তান তোমাদের কাছেই থাক”।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিনই রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিশু দুটিকে তাদের দাদির হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মা রেখে চলে যাওয়ার পর শিশু দুটিকে ঝালকাঠি সদর থানায় নেওয়া হয়। তখন তারা দুজনই বেশ অসুস্থ ছিল। তাদের কান্নায় তখন থানার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের একজন নারী কনস্টেবল তাদেরকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পরে সদর থানা থেকে শিশু দুটির বাবা কাঁঠালিয়া থানার কনস্টেবল ইমরানকে বিষয়টি জানানো হলে তার মা রাত সাড়ে ১০টার দিকে এসে শিশু দুটিকে নিয়ে যান।

শিশু দুজনের মা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমরান হোসেন এক মাসের প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে অবস্থান করছেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার মালুহার গ্রামে। ২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে এ বছরের মার্চ মাসে স্ত্রীকে তালাক নোটিশ পাঠান ইমরান। তালাক নোটিশ পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন স্ত্রী সুমাইয়া। 

সুমাইয়া আক্তার মোবাইল ফোনে বলেন, “গত ১২ সেপ্টেম্বর টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় শিশু আরাফ ও আয়ানকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালে চিকিৎসকরা তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় ছয় হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি শিশু দুটির পিতাকে জানানো হলেও তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতের জন্য যাই। কিন্তু প্রধান গেটের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও  সুমন মিয়া নামের দুই পুলিশ সদস্য তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে না-দেয়ায় বাধ্য হয়ে শিশু সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।”

সুমাইয়ার দাবি, ইমরান স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বাচ্চাদের খরচ ও ভরণপোষণ বাবদ মাসিক তিন হাজার টাকা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকলেও তিনি তা নিয়মিত দিতেন না। চিকিৎসা খরচ চালাতেও অপারগতা প্রকাশ করেন। 

তিনি আরও বলেন, “তালাক নোটিশ পাঠানোর আগে থেকেই তার এবং সন্তানদের কোনো ভরণপোষণ দিতেন না ইমরান। ওদের লালন-পালন করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু খরচ চালানোর মতো সঙ্গতি আমার নেই।”

কনস্টেবল ইমরান এ বিষয়ে বলেন, “প্রতি মাসে বাচ্চা দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দিই। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজখবর নেই। কিন্তু মা হয়ে সে কীভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল?”

   

About

Popular Links

x