নতুন বছরের শুরুর মাসে ২০ দিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে ৯টি জেব্রা মারা গেছে। পার্কের হিসেব অনুযায়ী এখানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। এত অল্প সময়ে ৯টি জেব্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারী) দুপুরে পার্কে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, হঠাৎ করে গায়ের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যাওয়ার ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে জেব্রাগুলো মারা গেছে। বর্তমানে গর্ভবতী আটটি জেব্রা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
মারা যাওয়া জেব্রাগুলোর দেহ এবং তাদের খাদ্য উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে পার্ক কর্তৃপক্ষ হাতে পেয়েছে। সেই প্রতিবেদন এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় উপস্থাপন করে মঙ্গলবারের বৈঠকে জেব্রা মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান জানান, পরীক্ষাগারগুলো থেকে ব্যকটেরিয়া, করোনাভাইরাস কারণ, খাদ্যে কীটনাশকের উপস্থিতিসহ নানা বিষয় চিহ্নিত করেছে। তবে আইসিডিডিআরবি ল্যাব থেকে করোনাভাইরান নেগেটিভ এসেছে।
তিনি জানান, সাফারী পার্কের মতো এতো জেব্রা দেশের কোথাও নেই। আগে জেব্রার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে জেব্রার গায়ের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং এসব উপসর্গ দেখা যাওয়ার ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে জেব্রা মারা যাচ্ছে। এ বছরের ২ জানুয়ারী থেকে অজ্ঞাত কারণে জেব্রা মারা যেতে শুরু করে।। কয়েকটি অসুস্থ্ জেব্রাকে চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাণীর জন্য ময়মনসিংহ এলাকা থেকে ঘাস আনা হয়। এ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ঘাস ধুয়ে বাকি জেব্রাগুলোকে খাওয়ানো হচ্ছে। তারপরও কয়েকটি জেব্রা মারা গেছে। আটটি জেব্রা গর্ভবতী রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোনো ধরণের সংক্রমণ হয় কি না তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”
পার্ক সুত্র জানায়, যাত্রা শুরুর প্রথম থেকেই এখানে জেব্রা পালে নতুন অতিথির সংখ্যা যুক্ত হচ্ছিল। গত কয়েক বছর যাবত বিশেষ করে করোনাভাইরাসের সময়ে জেব্রার অধিকতর প্রজনন ঘটে। যেভাবে জেব্রার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাতে কর্তৃপক্ষ অনেক আশাবাদী ছিলেন। দেশের চাহিদা মিটিয়ে জেব্রা বিদেশেও রপ্তানীর একটা সম্ভাবনা ছিল। পার্কের অন্যসব প্রাণীর মধ্যে জেব্রার প্রজনন ছিল আশাব্যঞ্জক।
সাফারি পার্কের চিকিৎসক ডা. জুলকারনাইন বলেন, “প্রাথমিকভাবে যে ডায়াগনোসিস করা হয়েছে সেগুলোতে বড় ধরণের কোনো কিছু চিহ্নিত করা যায়নি। গভীরতর কিছু পাওয়ার জন্য ল্যাব ডায়াগনোসিসের প্রয়োজন পড়ে। নানা উপাদান সংগ্রহ করে একাধিক ল্যাব ডায়াগনোসিস সম্পন্ন হয়েছে। বোর্ড সভায় সেগুলো উপস্থাপিত হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞগণ থাকবেন তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন সে অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট দেওয়া হবে।”



