Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হৃদয় মণ্ডলের অভিযোগ: স্কুলের রেষারেষির কারণে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে

রবিবার বিকেলে মুক্তির পর শঙ্কা প্রকাশ করে রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩০ পিএম

“স্কুলের মধ্যকার রেষারেষির কারণে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে,” বলে অভিযোগ করেছেন বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল।

রবিবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ৫০মিনিটে  মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তবে ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেদিন আমি ধর্ম অবমাননার মতো কিছুই বলিনি। আমি সরকারের কাছে নিজের ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাইছি।”

এদিকে, পরিবারকে নিয়ে এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার বলেন, “আমরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায়  ভুগছি। পরিস্থিতি যেমন তাতে যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। তাই সরকার ও পুলিশ প্রশাসনে কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাইছি।”


আরও পড়ুন- কারামুক্ত হলেন বিজ্ঞান শিখিয়ে রোষানলের শিকার হৃদয় মণ্ডল


তিনি আরও বলেন, “মূলত স্কুলের ভেতর ও বাইরের রেষারেষির কারণেই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।”

এ ঘটনার পেছনে যারা উসকানি দিয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ববিতা হাওলাদার বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে যা হয়েছে তা যেন আর কোনো শিক্ষকের সঙ্গে না হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের যে সম্মানহানি করা হয়েছে সে জন্য মানহানির মামলা ও অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা রেকর্ড করার দায়ে আইসিটি মামলা করা হবে।”

এর আগে, রবিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে  মুন্সিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাহারাত আক্তার ভূঁইয়ার আদালত হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ৫ হাজার টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলায় অভিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহিন মোহাম্মদ আমানু্ল্লাহ জামিন আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কথোপকথনে ধর্মীয় অবমাননাকর কোনো বিষয় ছিল না। বাদী মামলায় যে অভিযোগ করেছেন তা প্রমাণিত হয়নি। সকল নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে ৫ হাজার টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পল্টু ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে অখুশি হলেও যেহেতু বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে যে কেউ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা করতে পারেন।

গত ২০ মার্চ পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় মণ্ডল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রাসঙ্গিকভাবে ইসলাম ধর্ম বিষয়েও কথা বলেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার বক্তব্য রেকর্ড করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে অসন্তোষের জেরে স্কুল ছুটির পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন দেয় শিক্ষার্থীরা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের অসন্তোষের জেরে স্কুল  ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিষয়টি সমঝোতার সমাধান না মেনে ২২ মার্চ ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।

খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানা ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর হৃদয় চন্দ্রকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়।

ওইদিন রাতেই বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

   

About

Popular Links

x