Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

একে অপরকে দুষছে ইতালির দূতাবাস ও দাবা ফেডারেশন

দূতাবাস বলছে, খেলোয়াড়দের ফেরার নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনের নথি যথেষ্ট ছিল না

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২, ১১:৪১ এএম

ফিদে ওয়ার্ল্ড জুনিয়র দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী সাত বাংলাদেশি দাবা খেলোয়াড়কে ভিসা দেয়নি ইতালির দূতাবাস। ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাস বলেছে, আবেদনের সঙ্গে যথাযথ নথির অভাব ছিল, তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন।

ঢাকায় নিয়োজিত ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াটা এ বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “জুনিয়র লেভেলে এই প্রতিযোগিতার খেলোয়াড়রা অপ্রাপ্তবয়স্ক। ইতালিতে থাকার সময় অভিভাবকত্বের বিষয়ে শেনজেন এবং ইতালিয়ান নিয়ম অনুযায়ী যথেষ্ট গ্যারান্টি ভিসা আবেদনে নথিভুক্ত ছিল না।”

জানা গেছে, প্রতিযোগিতাটি ১১ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরের ইতালীয় দ্বীপ সার্ডিনিয়াতে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন থেকে অংশগ্রহণকারী সাত খেলোয়াড় হলেন সুব্রত বিশ্বাস, নোশিন আঞ্জুম, জান্নাতুল ফেরদৌস, নীলাভা চৌধুরী, ওয়ালিজা আহমেদ, ওয়াদিফা আহমেদ এবং শাদাত কিবরিয়া আয়ান। এর মধ্যে ওয়ালিজা জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন।

প্রতিনিধি দলের প্রধান মাহমুদা চৌধুরী মলি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “খেলোয়াড়রা বাংলাদেশে ফিরবে না, এমন সন্দেহে দূতাবাস আবেদনগুলো নাকচ করে দিয়েছে।”

রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনজিয়াটা বলেন, “ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতালির দূতাবাসের নিষেধাজ্ঞামূলক নীতি রয়েছে, এমন দাবি করা ভুল।”

তিনি বলেন, "অভিভাবক ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইতালি ভ্রমণের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে দূতাবাস খুব সতর্ক থাকে।” 

অসম্পূর্ণ আবেদন বিষয়ে মাহমুদা চৌধুরী মলি বলে, "এটি সম্পূর্ণ ভুল। আমি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে বলেছিলাম, অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হলে আমরা সেটি দিব। তবে তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, হাজার নথি জমা দিলেও তারা আমাদের ভিসা দেবে না।

মাহমুদা চৌধুরী মলি জানান, তারা একটি এজেন্সির মাধ্যমে নথি জমা দিয়েছিলেন। 

তিনি বলেন, “আমরা প্রথমে জুনিয়রদের জন্য স্ট্যাম্পড নথি দিয়েছিলাম, কিন্তু ভিসা কেন্দ্র আমাদের জানায় যে, এই নথিগুলো কার্যকরী না। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রথম শ্রেণীর রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে লিখিত নথি এবং আদালতের অনুমতি নিয়েছি। আমরা এই নথিগুলো দূতাবাসে জমা দিয়েছি।”

তিনি জানান, দলের ১৮ বছরের বেশি বয়সী দুই খেলোয়াড়ও ভিসা পাননি। তিনি বলেন, “বাকি খেলোয়াড়দের বয়স ১৮ বছরের নিচে। আমরা তাদের জন্য কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়েছি। তারা ১৮ বছরের বেশি বয়সী দুই খেলোয়াড় এবং আমাকে ভিসা দিতে পারতো।”

মাহমুদা চৌধুরী মলি ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তারা ১৮ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ইমেইল ও ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি।

তিনি বলেন, “তারপর আমি দূতাবাসে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন কর্মকর্তা আমার সঙ্গে দেখা করে জানান যে তারা আমাদের সমস্ত পাসপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সন্দেহ করেছিল যে খেলোয়াড়রা যদি ইতালিতে যায় তবে তারা ফিরে আসবে না। "

তিনি আরও বলেন, “খেলোয়াড়রা গ্র্যান্ডমাস্টারদের অধীনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলাটা জরুরি।”

ভিসা ইস্যু তিনগুণ

ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, "আমরা জনগণের সেবার জন্য সর্বোচ্চ আগ্রহী... তবে, ভিসার জন্য অনুরোধকৃত নথিগুলো অবশ্যই সঠিক উপায়ে সরবরাহ করতে হবে এবং সঠিক হতে হবে।"

তিনি আরও জানান, দূতাবাসের ভিসা অফিস প্রচুর কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও "যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত ফাইল প্রক্রিয়া করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে"।

এ বছরের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালির দূতাবাস ১৫,৪১২টি ভিসা ইস্যু করেছে। ২০২১ সালের একই সময়ে ৫,৬৮৬টি এবং ২০১৯ সালে ১২,৪৫৬টি ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে ৪, ৮৩৫টি কাজের ভিসা, ৪,৯৮৮টি পারিবারিক পুনর্মিলনী ভিসা, ৩২৮টি স্টাডিজ ভিসা। ব্যবসায়িক ভিসা এবং ২,৫৯২টি, যার মধ্যে অনেকগুলো বহুবার্ষিক ভিসা রয়েছে।

   

About

Popular Links

x