Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মন্ত্রণালয় কি তবে পাটের পাতাই চেনে না!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী পাতাটিকে ‘গাঁজা পাতা’ বলে দাবি করছেন

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৩, ০৪:৫২ পিএম

জাতীয় পাট দিবসের প্রচারে যে পাতার ছবি ফেস্টুনে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন ছবিটি “গাঁজা পাতা” সদৃশ। তবে এমন দাবি অস্বীকার করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি পাটের নতুন জাত “মেস্তা পাতা”র।

তবে মন্ত্রণালয়ের এমন দাবি নাকচ করেছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দুইজন গবেষক। পাটের জিন বিন্যাস আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হাসিনা খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেছেন, “এটা কোনোভাবেই পাট পাতা নয়।”

পাটের সুদিন ফেরানোর লক্ষ্যে চলতি বছরের ৬ মার্চ থেকে জাতীয় পাট দিবস পালন করা হচ্ছে। প্রথম দিবসের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে- “সোনালি আঁশের সোনার দেশ/পাট পণ্যের বাংলাদেশ”। ওই দিন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর বিজয় সরণী মোড়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সৌজন্যে ফেস্টুন চোখে পড়ে। তাতে পাটজাত পণ্যের সঙ্গে রয়েছে সবুজ পাতার ছবি। সেখানে খাঁজ কাটা সবুজ পাতা দেখে পথচারীদের অনেকেই এটা পাট পাতা কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী পাতাটিকে “গাঁজা পাতা” বলে দাবি করেন।

এটা আসলে কী পাতা, তা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্লান্ট টেক্সনমিস্ট ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “এটা পাট পাতা নয়। এটা ভিন্ন জাতীয় কোনো উদ্ভিদের পাতা। পাটের পাতা সরল ও একক; আঙ্গুলের মতো এমন ছেঁড়া ছেঁড়া নয়। এ দুই ধরনের পাটের পাতার কোনোটাই এ ছবিতে ব্যবহার করা হয়নি।”

ক্যানাবিস লিফ হ্যাম্প / সংগৃহীত

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “দেশে প্রধানত দুটি প্রজাতির পাটের চাষ হয়। এর মধ্যে একটির পাতা মিষ্টি, আরেকটার পাতা তিতা। সাধারণ মানুষের কাছে দেশি ও তোষা এই দুই ধরনের পাট পরিচিত।”

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হালদার। তিনি বলেন, “ছবিটি পাটের নতুন জাত মেস্তা পাতার। ওই পাটের পাতাটিই এমন।”

এদিকে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট চেকিং নেটওয়ার্ক স্বীকৃত বাংলাদেশের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশ এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ফেস্টুনে ব্যবহার করা পাতাটির নাম “হ্যাম্প” (Hemp) বা ক্যানাবিস লিফ হ্যাম্প (Cannabis leaf hemp)। এর বাংলা গুগল করলে গাঁজা পাতাই পাওয়া যায়। তবে এর প্রকৃত বাংলা “শণ”।

ওই পোস্টে আরও বলা হয়, “হ্যাম্প” বা “মারিজুয়ানা” বা “গাঁজা” একই প্রজাতির উদ্ভিদ। একই প্রজাতির হলেও তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্যও রয়েছে। ক্যানাবিনয়েড-এর পরিমাণে এদের মূল পার্থক্য। হ্যাম্প-এ টেট্রাহাইড্রোকানাবিনল (Tetrahydrocannabinol) (THC)-এর পরিমাণ খুবই সামান্য। অপরদিকে গাঁজায় টিএইচএস এর পরিমাণ বেশি থাকে এবং এর পরিমাণ বেশি থাকার জন্যই গাঁজাকে অনেকেই ড্রাগস হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

হ্যাম্প এবং মারিজুয়ানা একই প্রজাতির উদ্ভিদ। অপরদিকে পাট ভিন্ন প্রজাতির। পাটের বৈজ্ঞানিক নাম “কর্কোরাস ক্যাপসুলারিস” (Corchorus capsularis), অপরদিকে মারিজুয়ানা ও হ্যাম্প-এর বৈজ্ঞানিক নাম “ক্যানাবিস স্যাটিভা” (Cannabis sativa)। অর্থাৎ পাট এবং হেম্প দুটি ভিন্ন প্রজাতির। তাই ব্যবহার করা এই সবুজ পাতা পাট এর নয়।

   

About

Popular Links

x