Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেবেন না, বললেন আদালত

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ‘দাওয়াত দিলেও যাবেন না। জেনেশুনে কারও দাওয়াতে যাওয়া মানে রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেওয়া’

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ০৪:১৭ পিএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম হোতা সেলিম প্রধানের আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ এর বিচারক বদরুল আলম পৃথক দুই ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে সেলিম প্রধানকে আদালতে নেওয়া হয়। রায় ঘোষণা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “রায় দিয়ে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব না। তাই দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেবেন না। দাওয়াত দিলেও যাবেন না। জেনেশুনে কারও দাওয়াতে যাওয়া মানে রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেওয়া। দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।”

আদালত মানিলন্ডারিং আইনে সেলিম প্রধানকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাভোগ করতে হবে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক আইনে চার বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত। এছাড়া অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাভোগ করতে হবে। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সেলিম প্রধান। ২৭ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদক উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার। মামলায় তার বিরুদ্ধে ১২ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছিল।

উপ-পরিচালকই মামলাটি তদন্ত করে সেলিম প্রধানের নামে মোট ৫৭ কোটির বেশি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পান। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর সেলিমের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালত।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেলিম প্রধান দুর্নীতি ও ক্যাসিনো খেলে মোট ৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৪৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ৩৫ কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার। ক্যাসিনো খেলে অর্জিত ২১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা পাচার করেছেন থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে।

সেলিম প্রধান জাপান-বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং পেপারসের চেয়ারম্যান। কোম্পানিতে তার ৪০% শেয়ার রয়েছে। ৬৯ হাজার শেয়ারের বিপরীতে এখানে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে ৬৯ লাখ টাকা।

তবে সেলিম প্রধানের নামে শেয়ার মানি ডিপোজিট পাওয়া গেছে ২৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫০ টাকা। এই টাকা তিনি অর্জন করেছেন অবৈধভাবে।

About

Popular Links