প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা কার্ডে স্থান পেয়েছিল পায়ে আঁকা আবদুল্লাহর (১২) ছবি। আবদুল্লাহ ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মিদ্দার হাটের কামাল উদ্দিন ও বিবি কুলসুমের ছেলে। জন্মের পর থেকেই তার দুটি হাত নেই। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। এর মধ্যে ওমানে ভাগ্য ফেরানোর তাগিদে পাড়ি জমিয়ে সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আবদুল্লাহর বাবা কামাল উদ্দিনের।
ছবিটি শুভেচ্ছা কার্ডে যুক্ত করার সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহারস্বরূপ নগদ এক লাখ টাকা পুরস্কার ও আড়াই শতাংশ জমির ওপর একটি আধা পাকা টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দাগনভূঞা পৌরসভার উদরাজপুর এলাকায় ওই বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, জন্মগতভাবে শিশুটির দুই হাত নেই। তবুও সে নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সে পা দিয়ে ছবি এঁকে উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। তার আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তার নির্দেশেই জমিসহ পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
আবদুল্লাহর মা কুলসুম দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোকে বলেন, “এতদিন আমার ভাই ও অন্যান্য স্বজন ছেলেদের পড়াশোনার খরচ দিতেন। অনেক কষ্টে ছেলেদের পড়াশোনা করাচ্ছি। এর মধ্যে আবদুল্লাহ প্রতিবন্ধী হওয়ায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে আমি ছেলেকে সব কাজ করতে শিখিয়েছি। শত কষ্ট হলেও ওর পড়াশোনা বন্ধ করিনি। এখন এই ছেলেই আমাদের গর্বিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে হাত বাড়িয়েছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।”



