Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

৪ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন তারা। বিদেশে যেতে যৌতুক দাবি করে আসছিলেন হাসিব। শনিবার পরিবারের লোকজনসহ মনিকাকে মারধর করা হলে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৫ পিএম

প্রেমের বিয়ের ৪ বছর পর যৌতুক না পেয়ে মনিকা বেগম (২৬) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের বাট্টাইধোবা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী হাসিব ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রেম করে মনিকাকে বিয়ে করেন কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের বাট্টাইধোবা গ্রামের হাসিব। এই দম্পত্তির আড়াই বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। হাসিব মনিকার বাবার বাড়ির লোকজনের কাছে প্রায়ই যৌতুকের টাকা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে হাসিব ও মনিকার মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো। মনিকার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও চালানো হতো।

আরও জানা যায়, এ নিয়ে কয়েকবার থানায় অভিযোগ ও গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। বেশ কয়েকবার মনিকা তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে হাসিবকে দিয়েছেন। ঘটনার তিন দিন আগে হাসিব বিদেশ যেতে টাকার জন্য মনিকাকে চাপ দিতে থাকেন। মনিকার দরিদ্র ও বৃদ্ধ বাবা টাকার যোগান দিতে না পারায় মনিকাকে শনিবার রাতে মারধর করে হাসিব ও তার পরিবারের লোকজন। পরে তারা মনিকাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। মারপিটের একপর্যায়ে উত্তেজনা বসত শ্বাসরোধে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। 

মনিকার বোনের ছেলে মো. শামীম হোসেন বলেন, “শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমার মায়ের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে খালামনি বলেন ‘আমাকে মেরে ফেললো। তোরা এসে আমাকে বাঁচা।’ এরপর আমি আমার কয়েকজন বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে খালামনির বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ঘরের মেঝেতে খালা মনির লাশ পড়ে আছে। গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাড়িতে কেউ নেই। পরে বিষয়টি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানালে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাশিয়ানী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।”

নিহতের বাবা খোকন শেখ (৭০) বলেন, “বিয়ের পর থেকেই হাসিব ও তার পরিবারের লোকজন টাকার জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিয়ে আমি কয়েকবার সালিশ ডেকেছি। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। হাসিব ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোহাম্মদ ফিরোজ আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। গলায় দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।”

এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

   

About

Popular Links

x