ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো উৎরে যাওয়ায় দ্রুত এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
শনিবার (১২ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প ডিএইইপি-এর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুসারে, ২০২৬ সালে ১০.৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কসহ ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সম্পন্ন হবে। এতে ৩০ জেলার ৪ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে।
ডিপিপি অনুযায়ী ঢাকা শহরের উত্তরাঞ্চলের সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর এবং ইপিজেড সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলের যানজটও লাঘব হবে।
ডিএইইপি-এর প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ২০২৬ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, ঢাকা শহরকে ৩০টি জেলার সাথে সংযুক্তকারী আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডোরে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কিছু প্রাক-নির্মাণ কাজ যেমন জমি উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয় আগে শুরু হয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে”।
চ্যালেঞ্জ কমল
২০১৭ সালে শুরু হয়ে প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, জমি অধিগ্রহণে অসুবিধা, কোভিড -১৯ বিধিনিষেধ ও নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকে পিছিয়ে দেয়।
তবে এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) কর্মকর্তাদের মতে, ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, জমি অধিগ্রহণের জটিলতার মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।
বিবিএ ও অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও চীন ইতোমধ্যে ১১২৬.৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার ক্রেডিট (পিবিসি) হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে তহবিল দেবে।
প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান বলেন, “নির্মাণ কাজ করার জন্য তহবিল পাওয়া গেছে। একইভাবে, প্রকল্পের জন্য ৯৫% এর বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে”।
বিবিএ অনুসারে, ডিএইইপি-এর মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬,৯০১ কোটি টাকা। যেখানে চায়না এক্সিম ব্যাংক ১০,৯৫০ কোটি টাকা ও সরকার ৫,৯৫১ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে দেবে। এটি ২০২২ সালে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল।
তবে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে। বিবিএ নতুন করে সংশোধিত আনুমানিক ব্যয় ধরেছে ১৭,৫৪১ কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান বলেন, “প্রকল্পটির অগ্রাধিকার প্রকল্প হওয়ায় সরকার ইতিমধ্যেই সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
একটি স্বপ্নের প্রকল্প
ডিএইইপি অনেকের জন্য একটি স্বপ্নের প্রকল্প। কারণ এটি রাজধানী ও এর শহরতলিতে জনাকীর্ণ রাস্তা এড়িয়ে উত্তর ও দক্ষিণ জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ করবে।
এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা ইপিজেড থেকে শুরু হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এইচএসআইএ) পর্যন্ত চলবে। এরপর আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রজেক্ট (ডিইইপি) ডিএইইপি-এর সাথে মিলিত হবে।
ডিইইপি প্রকল্পটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এইচএসআইএ থেকে কুতুবখাল পয়েন্ট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার প্রসারিত হবে।
মোট ৪৪ কিলোমিটার নিয়ে গঠিত দুটি এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকার মধ্য দিয়ে যাত্রার সময় যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় বাঁচাবে।
শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ধউর ও আশুলিয়ার মধ্যে একটি ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের মহাসড়কটিও ডিএইইপি-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা যানবাহন চলাচলকে মসৃণ করতে পারে।
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকার যানজট কমাতে ২০২৬ সালের মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হবে।



