জমি নিবন্ধনের খরচ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বর্তমানে জমি নিবন্ধনে চুক্তিমূল্যের ৪% কর দিতে হয়। বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের সময় এই প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী তার প্রস্তাবে এলাকাভিত্তিক কাঠাপ্রতি ন্যূনতম করও নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
গুলশান, বনানী, মতিঝিল, দিলকুশা, নর্থ সাউথ রোড, মহাখালী এলাকায় জমির নিবন্ধন করা হলে চুক্তিমূল্য বা বিক্রয়মূল্যের ৮% কিংবা কাঠাপ্রতি ২০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি হবে, ওই পরিমাণ কর দিতে হবে। এর মানে হলো, ওই সব এলাকায় প্রতিকাঠায় ২০ লাখ টাকা কর দিতেই হবে।
একইভাবে প্রতিটি এলাকায় চুক্তিমূল্যের ৮% বা কাঠাপ্রতি ন্যূনতম করের পরিমাণ ধরে দেওয়া হয়েছে। যেমন কারওয়ান বাজার, উত্তরা, সোনারগাঁও জনপথ, শাহবাগ, পান্থপথ, বাংলামোটর, কাকরাইলে কাঠাপ্রতি ১২ লাখ টাকা; বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বাড্ডা, সায়েদাবাদ, পোস্তগোলা, গেন্ডারিয়া, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও সিডিএ অ্যাভিনিউতে কাঠাপ্রতি ৮ লাখ টাকা; নবাবপুর, ফুলবাড়িয়ায় ৬ লাখ টাকা কাঠাপ্রতি ন্যূনতম কর দিতে হবে।
এছাড়া উত্তরা (১-৯ সেক্টর), খিলগাঁও পুনর্বাসন এলাকা, আজিমপুর, রাজারবাগ, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, হালিশহর, পাঁচলাইশ, নাছিরাবাদ, মেহেদীবাগে কাঠাপ্রতি ন্যূনতম ৩ লাখ টাকা; গুলশান ও বনানীর কিছু অংশ, ধানমন্ডি, বারিধারা ডিওএইচএস, বনানী ডিওএইচএস, মহাখালী ডিওএইচএস, বসুন্ধরা (ব্লক এ-আই), নিকেতন, বারিধারায় ১০ লাখ টাকা; পূর্বাচল, বসুন্ধরা (ব্লক কে-পি), ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ৩ লাখ টাকা; কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, ইস্কাটন, গ্রিন রোড, এলিফ্যান্ট রোড, ফকিরাপুল, আরামবাগ, মগবাজার, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, শেরেবাংলা নগর, লালমাটিয়া, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ও চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকা; কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর, ইস্কাটন, গ্রিন রোড, এলিফ্যান্ট রোডের কিছু অংশে আড়াই লাখ টাকা; উত্তরা (সেক্টর ১০-১৪), নিকুঞ্জ, বাড্ডা (কিছু অংশ), গেন্ডারিয়া, শ্যামপুর, টঙ্গী শিল্প এলাকায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা; শ্যামপুর শিল্প এলাকা ও জুরাইনে ১ লাখ টাকা; রাজারবাগের কিছু অংশে দেড় লাখ টাকা; খিলগাঁওয়ে দেড় লাখ টাকা, গোড়ান ও হাজারীবাগ ট্যানারি এলাকায় ৬০ হাজার টাকা কাঠাপ্রতি ন্যূনতম কর দিতে হবে।
এছাড়া ওপরে উল্লেখিত এলাকাগুলো ছাড়া রাজউক ও চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (সিডিএ) অন্যান্য এলাকায় জমি বেচাকেনা হলে চুক্তিমূল্যের ৮%; গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা (রাজউক ও সিডিএ এলাকা ছাড়া) এবং অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও জেলা সদর পৌর এলাকায় চুক্তিমূল্যের ৬% কর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য পৌরসভা এলাকায় চুক্তিমূল্যের ৪% এবং দেশের অন্য এলাকায় চুক্তিমূল্যের ২% কর দিতে হবে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত ও “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার প্রয়াসে গুরুত্ব দিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
সবশেষ বাজেটটি আগের বাজেটের চেয়ে ১২.৩৪% বড়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছিল।
২০২৩-২৪ সালে প্রস্তাবিত বাজেট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদের শেষ বাজেট। এটি দেশের ৫২তম, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম ও মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট।
“উন্নয়নের দেড় দশক: স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে” শিরোনামে বাজেট বক্তৃতা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।



